ইন্ডিয়া পোস্টের নতুন উদ্যোগ ‘DIGIPIN’: কীভাবে আপনার সাধারণ ঠিকানাকে ডিজিটাল করবে?

Table of Contents

ডিজিটাল যুগে ভারতীয় ডাক বিভাগের নতুন উদ্যোগ: আসছে DIGIPIN

বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে অনলাইন শপিং এবং ডেলিভারি পরিষেবা। কিন্তু অনেক সময়ই সঠিক ঠিকানার অভাবে পার্সেল বা জরুরি পরিষেবা পৌঁছতে দেরি হয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ভারতীয় ডাক বিভাগ (India Post) নিয়ে এসেছে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ—DIGIPIN (Digital Postal Index Number), যা ঠিকানা খোঁজার পদ্ধতিকে আরও সহজ করবে।

DIGIPIN কী এবং কীভাবে কাজ করে?

DIGIPIN হলো চিরাচরিত ৬ অঙ্কের পিন কোডের পাশাপাশি একটি অত্যাধুনিক ব্যবস্থা:

  • নির্ভুল লোকেশন: এটি ভারতের ভৌগোলিক এলাকাকে প্রায় 4m x 4m ছোট গ্রিডে ভাগ করে এবং প্রতিটি গ্রিডের জন্য একটি নির্দিষ্ট ১০ অক্ষরের আলফা-নিউমেরিক কোড প্রদান করে।

  • প্রযুক্তিগত ভিত্তি: জায়গার অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশের (Latitude এবং Longitude) ওপর ভিত্তি করে এই ইউনিক কোডটি তৈরি করা হয়।

  • যৌথ উদ্যোগ: ভারতীয় ডাক বিভাগের সঙ্গে IIT Hyderabad এবং ISRO-এর NRSC (National Remote Sensing Centre)-এর যৌথ সহযোগিতায় এই ব্যবস্থাটি তৈরি করা হয়েছে।

চিরাচরিত পিন কোড বনাম DIGIPIN

বৈশিষ্ট্য সাধারণ পিন কোড (PIN) ডিজিপিন (DIGIPIN)
গঠন ৬ অঙ্কের সংখ্যামূলক কোড ১০ অক্ষরের আলফা-নিউমেরিক কোড
এলাকা একটি বিস্তৃত পোস্টাল বা ডাক এলাকা নির্দেশ করে একটি সুনির্দিষ্ট 4m x 4m গ্রিড বা ভৌগোলিক বিন্দু নির্দেশ করে
ভিত্তি পোস্টাল সীমানা ও পরিকাঠামো জিপিএস (অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশ) কোঅর্ডিনেট

DIGIPIN-এর প্রধান সুবিধাগুলি

ফাইল থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও অন্যান্য উৎস পর্যালোচনা করলে এই নতুন ব্যবস্থার যে সুবিধাগুলি পাওয়া যায়:

  • ইন্টারনেট নির্ভরতা হ্রাস: লোকেশনের DIGIPIN জানা থাকলে সেটি শেয়ার বা ব্যবহারের জন্য ইন্টারনেটের উপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে যায়।

  • ঠিকানা ছাড়াই গন্তব্য: প্রত্যন্ত গ্রামে রাস্তার নাম বা নির্দিষ্ট বাড়ির নম্বর না থাকলেও, এই কোডের সাহায্যে একেবারে সঠিক জায়গাটি অনায়াসে খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

  • ডেলিভারি সমস্যার সমাধান: ভুল বা অসম্পূর্ণ ঠিকানার কারণে কুরিয়ার বা পার্সেল ডেলিভারিতে বাধা অনেকটাই কমবে এবং ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের পণ্য ফেরত আসার হার (RTO) হ্রাস পাবে।

  • জরুরি পরিষেবা: প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অ্যাম্বুল্যান্স বা অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট লোকেশনে দ্রুত পৌঁছতে এটি অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে।

  • সরকারি পরিষেবা ও ভেরিফিকেশন: Digital KYC এবং বিভিন্ন সরকারি জনকল্যাণমূলক পরিষেবা একেবারে সঠিক ব্যক্তির কাছে ও স্থানে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে এটি কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।

সংক্ষেপে, DIGIPIN আমাদের পুরোনো ঠিকানার ব্যবস্থাকে বাতিল করবে না, বরং একটি ডিজিটাল স্তর হিসেবে যুক্ত হয়ে আমাদের অবস্থানকে আরও নিখুঁত ও সুস্পষ্ট করে তুলবে। এটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সঞ্চয় করে না, তাই এটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।

নিজের বাড়ি বা ব্যবসার জন্য এই ধরনের একটি ইউনিক ডিজিটাল ঠিকানা ব্যবহার করতে পারলে আপনার দৈনন্দিন কাজ কতটা সহজ হতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

ডিজিপিন (DIGIPIN): ভারতীয় ডাক বিভাগের নতুন ডিজিটাল ঠিকানার বিপ্লব – জানুন বিস্তারিত (সম্পূর্ণ গাইড ও FAQ)

বর্তমান ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তি আমাদের জীবনযাত্রাকে অনেক সহজ করে তুলেছে। অনলাইন শপিং থেকে শুরু করে যেকোনো পরিষেবা এখন আমাদের হাতের মুঠোয়। কিন্তু অনেক সময়ই সঠিক ঠিকানার অভাবে পার্সেল বা জরুরি পরিষেবা পৌঁছতে দেরি হয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য এবং ঠিকানা খোঁজার পদ্ধতিকে আরও সহজ করতে ভারতীয় ডাক বিভাগ (India Post) নিয়ে এসেছে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ—DIGIPIN বা Digital Postal Index Number।

ডিজিপিন (DIGIPIN) কী?

চিরাচরিত ৬ অঙ্কের পিন কোডের (PIN Code) পাশাপাশি নির্দিষ্ট লোকেশন চিহ্নিত করার জন্য এটি একটি ১০ অক্ষরের আলফা-নিউমেরিক কোড। এটি মূলত একটি জিও-কোডেড (geo-coded) অ্যাড্রেসিং সিস্টেম যা ভারতের যেকোনো স্থানকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে সক্ষম। দেশের ভৌগোলিক এলাকাকে প্রায় 4m x 4m ছোট গ্রিডে ভাগ করে প্রতিটি গ্রিডের জন্য আলাদা DIGIPIN বরাদ্দ করা হয়।

কীভাবে তৈরি হয় এই কোড?

জায়গার অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ (Latitude ও Longitude) অনুযায়ী এই ইউনিক ১০ অক্ষরের কোড তৈরি হয়। এটি একটি সম্পূর্ণ লজিক নির্ভর সিস্টেম যেখানে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার নাম বা রাস্তার নামের প্রয়োজন হয় না।

কারা তৈরি করেছে?

India Post-এর সঙ্গে IIT Hyderabad ও ISRO-র NRSC-র (National Remote Sensing Centre) সহযোগিতায় তৈরি হয়েছে এই ব্যবস্থা। এটি ভারতের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI)-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ডিজিপিন (DIGIPIN) ব্যবহারের প্রধান সুবিধা

  • লোকেশনটির DIGIPIN জানা থাকলে সেটি শেয়ার বা ব্যবহারের জন্য ইন্টারনেটের উপর নির্ভরতা কমে যায়। কারণ এটি অফলাইনেও কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

  • রাস্তার নাম বা নির্দিষ্ট বাড়ির নম্বর না থাকলেও সঠিক জায়গা খুঁজে পেতে এটি সাহায্য করবে।

  • ভুল বা অসম্পূর্ণ ঠিকানার কারণে কুরিয়ার ও বাড়িতে ডেলিভারির সমস্যা কমাতে এটি অত্যন্ত সহায়ক।

  • প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অ্যাম্বুল্যান্স বা অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট লোকেশনে দ্রুত পৌঁছতে এটি সাহায্য করতে পারে।

  • Digital KYC এবং বিভিন্ন সরকারি জনকল্যাণমূলক পরিষেবা সঠিক জায়গায় পৌঁছনোর ক্ষেত্রেও এটি কাজে লাগতে পারে।

সাধারণ পিন কোড এবং ডিজিপিনের মধ্যে পার্থক্য

একটি সাধারণ পোস্টাল পিনকোড (PINCODE) একটি বিস্তৃত এলাকা বা পাড়াকে চিহ্নিত করে। অন্যদিকে, ডিজিপিন (DIGIPIN) প্রায় 4m x 4m আয়তনের একটি নির্দিষ্ট স্থানকে চিহ্নিত করে, যা অনেক বেশি নিখুঁত। সাধারণ পিন কোড এলাকা ভিত্তিক, আর ডিজিপিন হলো অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশ ভিত্তিক।

digipin

ডিজিপিন নিয়ে সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)

এখানে ভারত সরকারের ডাক বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ডিজিপিন (DIGIPIN) সম্পর্কিত কিছু বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও তার উত্তর দেওয়া হলো:

১. ডিজিপিন (DIGIPIN) কী? এটি হলো ভারতীয় ডাক বিভাগ এবং IIT হায়দ্রাবাদের যৌথ উদ্যোগে তৈরি একটি দেশব্যাপী জিও-কোডেড ঠিকানার ব্যবস্থা। এটি ভারতকে প্রায় 4m x 4m গ্রিডে বিভক্ত করে এবং প্রতিটি গ্রিডকে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশের ওপর ভিত্তি করে একটি ১০-অক্ষরের আলফা-নিউমেরিক কোড প্রদান করে। এটি লজিস্টিকস এবং জরুরি পরিষেবাগুলিকে উন্নত করতে সাহায্য করে।

২. সাধারণ ডাক ঠিকানার সাথে ডিজিপিনের পার্থক্য কোথায়? সাধারণ ঠিকানা এলাকা, রাস্তা এবং বাড়ির নম্বরের উপর নির্ভর করে, কিন্তু ডিজিপিন একটি জিওস্পেশিয়াল রেফারেন্স যা কোনো স্থানের সঠিক স্থানাঙ্কের উপর ভিত্তি করে একটি ১০-অক্ষরের কোড প্রদান করে।

৩. সাধারণ ঠিকানা থাকার পরেও ডিজিপিন কেন প্রয়োজন? ডিজিপিন নিখুঁত অবস্থান-ভিত্তিক পরিচয় প্রদান করে, বিশেষত এমন এলাকাগুলিতে যেখানে ঠিকানা অস্পষ্ট বা বারবার পরিবর্তন হয়। গ্রামীণ অঞ্চল, বনভূমি বা সমুদ্রের মতো যে জায়গাগুলিতে স্পষ্ট ঠিকানা নেই, সেখানে এটি বিশেষভাবে কার্যকর।

৪. ডিজিপিন কি অফলাইনে কাজ করে? হ্যাঁ, ডিজিপিন অফলাইনে ব্যবহারের জন্যও তৈরি করা হয়েছে। ডাক বিভাগ এনকোডিং এবং ডিকোডিংয়ের জন্য এর লজিকের কোডগুলি সাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করেছে।

৫. ডিজিপিন কি নেভিগেশনে ব্যবহার করা যেতে পারে? হ্যাঁ, সুনির্দিষ্ট লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের জন্য নেভিগেশন সিস্টেম এবং বিভিন্ন অ্যাপে ডিজিপিন কোডগুলি যুক্ত করা যেতে পারে।

৬. আমি ডিজিপিন ব্যবহার করলে কি আমার সাধারণ ডাক ঠিকানা বদলে যাবে? না, আপনার বর্তমান ডাক ঠিকানা একই থাকবে। ডিজিপিন হলো একটি অতিরিক্ত ডিজিটাল স্তর যা বর্তমান ব্যবস্থাকে আরও নিখুঁত করতে সাহায্য করে।

৭. কীভাবে কোনো নির্দিষ্ট জায়গার ডিজিপিন তৈরি হয়? এটি কোনো স্থানের অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশ থেকে নেওয়া হয় এবং পূর্বনির্ধারিত চিহ্ন ব্যবহার করে একটি ১০-অক্ষরের আলফা-নিউমেরিক ফরম্যাটে এনকোড করা হয়।

৮. ডিজিপিনে কি আমার ব্যক্তিগত তথ্য জমা থাকে? না, ডিজিপিন কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ করে না। এটি শুধুমাত্র ভৌগোলিক স্থানাঙ্কের ওপর ভিত্তি করে একটি লোকেশন কোড প্রদান করে, যার ফলে গোপনীয়তা বজায় থাকে।

৯. গ্রামীণ বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে কি ডিজিপিন কাজ করবে? হ্যাঁ, ডিজিপিন গ্রামীণ, প্রত্যন্ত এবং শহুরে সমস্ত অঞ্চলে সমানভাবে কাজ করে। যেখানে কোনো প্রথাগত ঠিকানা নেই, সেই জায়গাগুলিও এর অন্তর্ভুক্ত।

১০. ডিজিপিন কতটা নিখুঁত? প্রতিটি কোড প্রায় 4m x 4m এলাকার প্রতিনিধিত্ব করে, যা একে ডেলিভারি ও জরুরি পরিষেবার জন্য অত্যন্ত নির্ভুল করে তোলে। তবে এর নির্ভুলতা অনেকটাই নির্ভর করে যে GNSS-সক্ষম ডিভাইসের মাধ্যমে স্থানাঙ্ক নেওয়া হচ্ছে তার উপর।

১১. পিনকোড (PINCODE) এবং ডিজিপিনের (DIGIPIN) মধ্যে পার্থক্য কী? পিনকোড একটি বিস্তৃত এলাকা নির্দেশ করে, আর ডিজিপিন 4m x 4m আয়তনের একটি নির্দিষ্ট স্থানকে অনেক বেশি নির্ভুলভাবে নির্দেশ করে।

১২. ডিজিপিন কি শুধুমাত্র ভারতের জন্য প্রযোজ্য? হ্যাঁ, ডিজিপিন ভারতের ভৌগোলিক সীমানার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যার মধ্যে সমুদ্র এলাকাও অন্তর্ভুক্ত। এর বাউন্ডিং বক্সটি হলো: দ্রাঘিমাংশ ৬৩.৫ ডিগ্রি থেকে ৯৯.৫ ডিগ্রি পূর্ব; এবং অক্ষাংশ ২.৫ ডিগ্রি থেকে ৩৮.৫ ডিগ্রি উত্তর।

১৩. জরুরি পরিস্থিতিতে ডিজিপিনের সুবিধা কী? ডিজিপিন একটি নিখুঁত অবস্থান প্রদান করে যা দুর্যোগপ্রবণ বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে জরুরি পরিষেবাগুলিকে সঠিক জায়গায় দ্রুত পৌঁছাতে সাহায্য করে।

১৪. আমি আমার ডিজিপিন কীভাবে খুঁজব? আপনার সঠিক অবস্থান (অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশ) জানার জন্য একটি GNSS সুবিধাযুক্ত ডিভাইসের প্রয়োজন হবে, যা পরে একটি ডিজিপিন কোডে রূপান্তরিত করা যেতে পারে। ডাক বিভাগ এর জন্য একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেছে।

১৫. ডিজিপিন খুঁজতে কি লগইন বা সাইনআপ করতে হবে? না, আপনার লোকেশনের ডিজিপিন পেতে কোনো লগইন বা সাইনআপের প্রয়োজন নেই। ব্যবহারকারীকে শুধু তার ডিভাইসে লোকেশন অ্যাক্সেস দিতে হবে।

১৬. ডিজিপিন সরকারি পরিষেবায় কীভাবে সাহায্য করে? এটি নাগরিকদের জন্য সুনির্দিষ্ট অবস্থান-ভিত্তিক ঠিকানা প্রদান করে সরকারি পরিষেবাগুলি আরও দক্ষতার সাথে সরবরাহ করতে সাহায্য করে এবং সুবিধাভোগীদের তথ্য সংগ্রহ উন্নত করে।

১৭. নতুন বিল্ডিং বা রাস্তা তৈরি হলে ডিজিপিন কি বদলে যায়? ডিজিপিন কোডগুলি নির্দিষ্ট এবং পরিকাঠামো বা রাস্তার নাম পরিবর্তনের উপর নির্ভরশীল নয়, কারণ এগুলি শুধুমাত্র ভৌগোলিক স্থানাঙ্কের উপর ভিত্তি করে তৈরি। নতুন বিল্ডিং তৈরি হলেও ওই জায়গার ডিজিপিন একই থাকবে।

১৮. একাধিক বাড়ি বা ফ্লোর যুক্ত একটি বহুতলের কি আলাদা ডিজিপিন হবে? ডিজিপিন শুধুমাত্র অবস্থানের অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশের ওপর নির্ভর করে। ফ্লোরের তথ্য বা ঠিকানার অন্য কোনো অংশ এর মান পরিবর্তন করে না। এটি কোনো ব্যক্তির পরিচায়ক নয়, বরং শুধুমাত্র একটি ঠিকানা নির্দেশক ব্যবস্থা। তাই একই ঠিকানায় বসবাসকারী বিভিন্ন ব্যক্তির জন্য ডিজিপিন আলাদা হয় না।

১৯. ডিজিপিন কি চিরাচরিত ঠিকানার জায়গা নেবে? না, ডিজিপিন বর্তমান ঠিকানা ব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। এটি একটি অতিরিক্ত ডিজিটাল নির্ভুলতার স্তর প্রদান করে, তবে বর্তমান পোস্টাল ঠিকানাকে প্রতিস্থাপন করবে না।

২০. আমি কি পোস্ট অফিসে গিয়ে পার্সেল বুক করার সময় ডিজিপিন ব্যবহার করতে পারি? না, এখনই নয়। যখন ডাক বিভাগের সিস্টেমে চূড়ান্ত সংস্করণটি পুরোপুরি যুক্ত করা হবে, তখন সরকারিভাবে ঘোষণা করা হবে এবং তারপর থেকে নাগরিকরা এটি ব্যবহার করতে পারবেন।

২১. ডিজিপিন কি গ্রামের জন্য উপকারী হতে পারে? হ্যাঁ, প্রত্যন্ত বা অনুন্নত গ্রামীণ অঞ্চলে যেখানে ঐতিহ্যবাহী ঠিকানা ব্যবস্থা সুস্পষ্ট নয়, সেখানে জিও-রেফারেন্সড ল্যান্ডমার্ক তৈরি করতে ডিজিপিন অত্যন্ত কার্যকর।

২২. কীভাবে আমি একটি ডিজিপিন ফেচ (fetch) বা ডিকোড (decode) করব? এটি একটি ১০-অক্ষরের আলফা-নিউমেরিক সিকোয়েন্স যা আপনার লোকেশনের অক্ষাংশের ওপর নির্ভর করে এবং প্রায় 4m x 4m এলাকার জন্য স্বতন্ত্র। ডাক বিভাগ এটি ফেচ ও ডিকোড করার লজিক সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছে।

২৩. ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও কি ডিজিপিন কাজ করে? হ্যাঁ, কারণ এটি একটি অফলাইন সিস্টেম। একবার তৈরি হয়ে গেলে এটি ইন্টারনেট ছাড়াই শেয়ার এবং ব্যবহার করা যেতে পারে।

২৪. ডিজিপিন কি নিরাপদ? হ্যাঁ, যেহেতু এর সাথে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য যুক্ত থাকে না, তাই এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। কোডটি শুধুমাত্র একটি লোকেশন নির্দেশ করে।

২৫. এটি কি আমার গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ করবে? না, এটি গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করে না। এটি শুধুমাত্র একটি ভৌগোলিক স্থান নির্দেশ করে এবং কোনো ব্যক্তিগত তথ্য দেখায় না বা জমা রাখে না।

২৬. ব্যবসায়ীরা কীভাবে ডিজিপিন থেকে উপকৃত হতে পারেন? ব্যবসায়ীরা বিশেষ করে জটিল ঠিকানাযুক্ত এলাকায় ডেলিভারির নির্ভুলতা, লজিস্টিকস এবং গ্রাহক পরিষেবা উন্নত করতে ডিজিপিন ব্যবহার করতে পারবেন।

ভবিষ্যতের এক নতুন অধ্যায়

ভবিষ্যতের ডিজিটাল ভারতের পথে ডিজিপিন (DIGIPIN) এক অনন্য মাইলফলক। এটি আমাদের সনাতন ডাক ঠিকানাকে বাতিল করবে না, বরং তাতে একটি আধুনিক ডিজিটাল মাত্রা যোগ করবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, এবং সরকারি পরিষেবা প্রদানকারীরা সমানভাবে উপকৃত হবেন। দেশের প্রত্যন্ত প্রান্তে নিখুঁতভাবে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা গেম-চেঞ্জার হতে পারে।


কোন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে কাজ করবে DIGIPIN? চলুন দেখা যাক

ডিজিপিন (DIGIPIN): ভারতের নতুন ডিজিটাল ঠিকানার রূপরেখা

ভারত সরকারের ডাক বিভাগ সারা দেশের জন্য একটি প্রমিত এবং জিও-কোডেড (geo-coded) ঠিকানা ব্যবস্থা তৈরি করতে ‘ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ (DPI) স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগের মূল ভিত্তি হলো ‘ডিজিপিন’ (DIGIPIN), যা একটি ওপেন-সোর্স এবং জাতীয় স্তরের অ্যাড্রেসিং গ্রিড। এটি ডাক বিভাগ, আইআইটি হায়দ্রাবাদ (IIT Hyderabad) এবং ইসরোর এনআরএসসি (NRSC, ISRO)-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে

ডিজিপিন (DIGIPIN) আসলে কী?

  • এটি একটি আলফা-নিউমেরিক (অক্ষর ও সংখ্যার মিশ্রণ) অফলাইন গ্রিড সিস্টেম, যা ভারতের সমগ্র ভৌগোলিক সীমানাকে প্রায় ৪ মিটার x ৪ মিটার ছোট এককে ভাগ করে

  • প্রতিটি ৪মি x ৪মি অংশের জন্য একটি অনন্য ১০-অক্ষরের কোড প্রদান করা হয়

  • এই কোডটি সরাসরি ওই নির্দিষ্ট স্থানের অক্ষাংশ (latitude) এবং দ্রাঘিমাংশের (longitude) উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়

  • কোডটি তৈরি করতে মোট ১৬টি চিহ্ন ব্যবহার করা হয়: 2, 3, 4, 5, 6, 7, 8, 9, C, J, K, L, M, P, F, এবং T

এর প্রযুক্তিগত গঠন ও কার্যপ্রণালী

  • ভৌগোলিক পরিধি: ডিজিপিন-এর মূল ফ্রেমওয়ার্ক বা ‘বাউন্ডিং বক্স’ (Bounding box) সমগ্র ভারতকে কভার করে। এর দ্রাঘিমাংশ ৬৩.৫ ডিগ্রি থেকে ৯৯.৫ ডিগ্রি পূর্ব এবং অক্ষাংশ ২.৫ ডিগ্রি থেকে ৩৮.৫ ডিগ্রি উত্তর পর্যন্ত বিস্তৃত

  • সামুদ্রিক অন্তর্ভুক্তি: এই ব্যবস্থার মধ্যে ভারতের সামুদ্রিক ‘এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন’ (EEZ)-ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার ফলে সমুদ্রে অবস্থিত তেলের রিগ বা দ্বীপগুলিকেও ডিজিটাল ঠিকানার আওতায় আনা সম্ভব

  • লেভেল বা ধাপ: ঠিকানার এই কোডটি ১০টি ধাপে (levels) কাজ করে। প্রথম ধাপে সমগ্র ভারতকে ১৬টি বৃহৎ অংশে ভাগ করা হয়, যার প্রতিটির আয়তন প্রায় ১০০০ কিলোমিটার। দশম ধাপে এসে এটি প্রায় ৩.৮ মিটার x ৩.৮ মিটার আয়তনের একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং নির্দিষ্ট স্থানে পরিণত হয়

  • কোঅর্ডিনেট সিস্টেম: এটি বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত EPSG:4326 (WGS84) কোঅর্ডিনেট রেফারেন্স সিস্টেম ব্যবহার করে

ডিজিপিন-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য ও সুবিধাসমূহ

  • স্থায়ী ঠিকানা: ডিজিপিন জমির ব্যবহার বা বিল্ডিংয়ের কাঠামোর ওপর নির্ভর করে না। কোনো এলাকার নাম, রাস্তার নাম বা নতুন বিল্ডিং তৈরি হলেও ওই নির্দিষ্ট স্থানের ডিজিপিন কোড অপরিবর্তিত থাকে

  • অফলাইন ব্যবহার: এই কোড সিস্টেমটি অফলাইনে কাজ করতে সক্ষম, যা ইন্টারনেট সংযোগহীন স্থানেও লোকেশন চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে

  • নির্ভুল পরিষেবা ও নিরাপত্তা: এটি জরুরি পরিষেবার রেসপন্স টাইম (যেমন- অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার ব্রিগেড পৌঁছানো) কমাতে সাহায্য করবে এবং সাধারণ ডেলিভারি ব্যবস্থাকে আরও নিখুঁত করবে

  • গোপনীয়তা রক্ষা: ডিজিপিন কেবলমাত্র একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থানকে নির্দেশ করে; এটি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ বা সংরক্ষণ করে না, ফলে গোপনীয়তা সম্পূর্ণ বজায় থাকে

  • বাণিজ্যিক সুবিধা: ব্যাংকিং এবং আর্থিক ক্ষেত্রে (BFSI) কেওয়াইসি (KYC) প্রক্রিয়ার নির্ভুলতা বাড়াতে এই ডিজিটাল ঠিকানা বিশাল ভূমিকা পালন করতে পারে

  • জাতীয় নীতি: এটি ভারতের ‘জাতীয় জিওস্পেশিয়াল নীতি ২০২২’ (National Geospatial Policy 2022)-এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে

সংক্ষেপে বলতে গেলে, ডিজিপিন হলো ভারতের যেকোনো ভৌত অবস্থানকে ডিজিটাল মাধ্যমে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রকাশ করার একটি যুগান্তকারী পদ্ধতি।

Official Website & information page 

আরও খবর পড়ুন এখানে ক্লিক করে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top