কালো জাদু থেকে প্রাচীন বিয়ারের রসিদ! কী লেখা আছে ডেনমার্ক মিউজিয়ামের এই গুপ্তধনে?

মানব সভ্যতার ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন এবং রহস্যে ঘেরা। মাটির নিচে, ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরে বা পুরনো জাদুঘরের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে আজও এমন অনেক অজানা তথ্য লুকিয়ে আছে, যা আমাদের অতীতের ধারণাকে সম্পূর্ণ পাল্টে দিতে পারে। শত বছরেরও বেশি সময় ধরে ডেনমার্কের ন্যাশনাল মিউজিয়াম বা জাতীয় জাদুঘর মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীনতম কিছু সভ্যতার তৈরি অসংখ্য কাদামাটির ট্যাবলেট বা ফলক সযত্নে সংরক্ষণ করে আসছে। এই অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর বেশিরভাগেরই বয়স ৪,০০০ বছরেরও বেশি এবং এগুলোতে এমন সব ভাষায় লেখা রয়েছে, যা আজ পৃথিবীতে আর কেউ বলে না। দীর্ঘকাল ধরে এই ট্যাবলেটগুলো অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকলেও, সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এর পাঠোদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। আর এই পাঠোদ্ধারের ফলে বেরিয়ে এসেছে প্রাচীন সমাজের জাদুবিদ্যা, রাজকীয় ক্ষমতা, রাজনীতি এবং দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজের এক বিস্ময়কর ও চিত্তাকর্ষক ইতিহাস।

কিউনিফর্ম (cuneiform) লিপি এবং লেখার সূচনা

আজ থেকে প্রায় ৫,২০০ বছর আগে, বর্তমান ইরাক এবং সিরিয়া অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষ এক যুগান্তকারী উদ্ভাবন করেছিল। তারা তাদের দৈনন্দিন হিসাব-নিকাশ এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণের জন্য ভেজা কাদামাটির ওপর নলখাগড়া বা রিড (reed) দিয়ে বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্ন খোদাই করতে শুরু করে। এই বিশেষ ধরনের লিখন পদ্ধতিকে বলা হয় কিউনিফর্ম লিপি বা কীলকাকার লিপি।

এই উদ্ভাবনটি মানব ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। এর ফলেই ধীরে ধীরে বড় ও জটিল শহরগুলোর উত্থান সম্ভব হয়। একটি সমাজ যখন আকারে বড় হতে থাকে, তখন মৌখিক হিসাবের ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্র চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। কিউনিফর্ম (cuneiform) লিপির সাহায্যে প্রাচীন যুগের মানুষেরা আরও উন্নত শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে পেরেছিল এবং সুশৃঙ্খলভাবে রেকর্ড সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছিল। এটি শুধুমাত্র হিসাব রাখার মাধ্যম ছিল না, বরং আইন, সাহিত্য, এবং বিজ্ঞানের বিকাশেও এটি এক বিরাট ভূমিকা পালন করেছিল।

ন্যাশনাল মিউজিয়ামের গুপ্তধন ও ডিজিটাইজেশন

বিগত এক শতাব্দী ধরে ন্যাশনাল মিউজিয়াম এই প্রাথমিক যুগের রেকর্ডগুলোর এক বিশাল আর্কাইভ বা সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছে। এই সবগুলো রেকর্ডই কিউনিফর্ম (cuneiform) লিপিতে লেখা। গত কয়েক দশকে এই অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানগুলো নিয়ে খুব একটা কাজ হয়নি বা বলা যায় এগুলো অগোচরেই পড়ে ছিল। তবে সম্প্রতি মিউজিয়ামের গবেষক এবং কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিশেষজ্ঞ মিলে এই লেখাগুলোর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ, শনাক্তকরণ এবং ডিজিটাইজেশনের কাজ সম্পন্ন করেছেন। তাদের এই যুগান্তকারী প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে “হিডেন ট্রেজারস: দ্য ন্যাশনাল মিউজিয়ামস কিউনিফর্ম কালেকশন” বা “গুপ্তধন: জাতীয় জাদুঘরের কিউনিফর্ম সংগ্রহ”

হামা শহরের প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ এবং বিচিত্র সব লেখা

সংগ্রহটির আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করার পর গবেষকরা এক বিশাল বৈচিত্র্যময় বিষয়বস্তুর সন্ধান পান। এই কাদামাটির ট্যাবলেটগুলোতে শুধু রাজার আদেশই লেখা ছিল না, বরং এতে ছিল প্রাচীন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা হিসাব। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড, ব্যক্তিগত চিঠি, চিকিৎসার নির্দেশিকা এবং অদ্ভুত সব ধর্মীয় ও জাদুকরী আচার-অনুষ্ঠানের বিবরণ।

এই সংগ্রহের বেশ কয়েকটি ট্যাবলেট সিরিয়ার প্রাচীন শহর হামা থেকে পাওয়া গেছে। ১৯৩০-এর দশকে ডেনিশ প্রত্নতাত্ত্বিকদের একটি দল সেখানে খননকাজ চালিয়ে এগুলো আবিষ্কার করেন। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ৭২০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে দুর্ধর্ষ অ্যাসিরিয়ান বা অশূরীয় বাহিনী হামা শহরটি আক্রমণ করে ধ্বংস করে দেয় এবং শহরের বহু মূল্যবান সম্পদ লুট করে তাদের রাজধানী আশুরে (বর্তমান ইরাক) নিয়ে যায়। কিন্তু লুটপাটের এই তাড়াহুড়োর মধ্যে তারা বেশ কয়েকটি কাদামাটির ট্যাবলেট ফেলে যায়। পরবর্তীতে এই ফেলে যাওয়া ট্যাবলেটগুলোই ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ ডেনমার্কের সংগ্রহের অংশে পরিণত হয়।

হিডেন ট্রেজারস” প্রকল্পের অন্যতম গবেষক এবং অ্যাসিরিওলজিস্ট (অ্যাসিরিয়ান ভাষা ও সংস্কৃতির বিশেষজ্ঞ) ট্রোলস প্যাঙ্ক আরবল বলেন, “হামা থেকে পাওয়া এই সংগ্রহের লেখাগুলো প্রায় ৩,০০০ বছরের পুরনো। এগুলোতে মূলত চিকিৎসা পদ্ধতি এবং জাদুকরী মন্ত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আমরা ধারণা করছি যে, এগুলো একটি বিশাল মন্দির-গ্রন্থাগারের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ফেলে যাওয়া হয়েছিল। কারণ সেখানকার অন্য সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ লেখা তারা আগেই সরিয়ে নিয়েছিল বা ধ্বংস করে দিয়েছিল।”

cuneiform

ডাইনিবিদ্যা প্রতিরোধী আচার এবং প্রাচীন জাদু

গবেষক আরবল উল্লেখ করেছেন যে, হামা থেকে প্রাপ্ত এই ট্যাবলেটগুলো অত্যন্ত বিরল এবং মূল্যবান। কারণ, ওই নির্দিষ্ট অঞ্চল এবং ওই সময়কালের খুব কম লেখাই আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়েছে। এই ট্যাবলেটগুলোর মধ্যে একটি বিশেষ ট্যাবলেট বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

ট্রোলস প্যাঙ্ক আরবলের মতে, “একটি কাদামাটির ট্যাবলেটে দেখা যায় যে সেখানে ডাইনিবিদ্যা বা কালো জাদু প্রতিরোধ করার একটি বিশেষ আচারের বর্ণনা দেওয়া আছে। অ্যাসিরিয়ান রাজদরবারে বা রাজকীয় কর্তৃপক্ষের কাছে এই ধরনের জাদুর আচার-অনুষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ তাদের বিশ্বাস ছিল যে, এই আচারের একটি অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে যা রাজার ওপর আসতে পারে এমন যে কোনো দুর্ভাগ্য—যেমন ধরুন রাজনৈতিক অস্থিরতা বা বিদ্রোহ—প্রতিহত করতে সক্ষম।”

প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় জাদুবিদ্যা এবং চিকিৎসাবিদ্যা প্রায়ই একে অপরের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তারা বিশ্বাস করত যে, রোগব্যাধি বা দুর্ভাগ্য মূলত দেবতা বা অশুভ আত্মাদের অভিশাপের ফল। তাই এই ডাইনিবিদ্যা প্রতিরোধী আচারটি সারারাত ধরে পালন করা হতো। এই আচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল মোম এবং কাদামাটি দিয়ে তৈরি ছোট ছোট পুতুল আগুনে পোড়ানো। পুতুল পোড়ানোর সময় একজন ‘এক্সরসিস্ট‘ বা ভূত তাড়ুড়ে নির্দিষ্ট কিছু মন্ত্র উচ্চারণ করতেন।

যেহেতু এই ধরনের জাদুকরী প্রথাগুলো অ্যাসিরিয়ান রাজদরবারের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল, তাই গবেষকরা অত্যন্ত অবাক হয়েছিলেন যে, সাম্রাজ্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু এবং ব্যাবিলনিয়ার মতো প্রধান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো থেকে এত দূরে এমন একটি লেখার সন্ধান পাওয়া গেল! কারণ, হামা শহরটি সেই সময়ে এই অঞ্চলগুলোর একদম বাইরের প্রান্তে অবস্থিত ছিল। এটি প্রমাণ করে যে, জাদুর প্রভাব এবং রাজকীয় ক্ষমতার বিস্তৃতি সে যুগে কতদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল।

প্রাচীন রাজাদের তালিকা, গিলগামেশ এবং পৌরাণিক কাহিনী

এই বিশাল সংগ্রহে একটি অত্যন্ত সুপরিচিত “রাজাদের তালিকা” বা রেগনাল লিস্টের একটি অনুলিপিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই ঐতিহাসিক দলিলটি এমন এক সময়ের রাজাদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছে, যেখানে কিংবদন্তি এবং বাস্তব ইতিহাস মিলেমিশে এক হয়ে গেছে।

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই দলিলটি নূহ নবী (নোয়া) এবং প্রাচীন পৃথিবীর সেই ভয়াবহ মহাপ্লাবনের (The Great Flood) আগের সময়ের রাজাদের সম্পর্কেও ধারণা দেয়। ন্যাশনাল মিউজিয়ামে পাওয়া এই সংস্করণটি মূলত একটি ‘প্রশিক্ষণ পাঠ্য’ বা ট্রেইনিং টেক্সট হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা করা হয় এবং এতে খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দের শেষের দিকের রাজাদের উল্লেখ রয়েছে। এই প্রাচীন তালিকার অন্যান্য সংস্করণগুলোতে সুপরিচিত রাজা গিলগামেশ-এর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যাকে আমরা বিখ্যাত “এপিক অফ গিলগামেশ” বা গিলগামেশের মহাকাব্য থেকে চিনি।

ট্রোলস প্যাঙ্ক আরবল এই আবিষ্কারের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, “এই রাজাদের তালিকাটি আমাদের কাছে থাকা এমন কয়েকটি বিরল নিদর্শনের মধ্যে একটি, যা ইঙ্গিত দেয় যে রাজা গিলগামেশ হয়তো সত্যিই ইতিহাসে অস্তিত্বশীল ছিলেন এবং তিনি কেবল একটি পৌরাণিক চরিত্র নন। ডেনমার্কে যে এই তালিকার একটি অনুলিপি আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে, সে সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণাই ছিল না। এটি প্রত্নতত্ত্বের দুনিয়ায় সত্যিই একটি দর্শনীয় এবং যুগান্তকারী ঘটনা।”

টেল শেমশারা: আমলাতন্ত্র এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রতিচ্ছবি

কিউনিফর্ম (cuneiform) লিপির এই সংগ্রহের আরেকটি বড় অংশ এসেছে ১৯৫৭ সালে আধুনিক উত্তর ইরাকে অবস্থিত টেল শেমশারা নামক স্থানে ডেনিশ প্রত্নতাত্ত্বিকদের চালানো খননকাজ থেকে। এই লেখাগুলোতে মূলত খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ সালের দিকে একজন স্থানীয় নেতা এবং একজন শক্তিশালী অ্যাসিরিয়ান রাজার মধ্যে আদান-প্রদান করা চিঠিপত্র এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক নথিপত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিউনিফর্ম (cuneiform) লেখার প্রাথমিক বিকাশে এবং এর প্রসারে এই ধরণের চিঠিপত্র বা সরকারি নথিপত্র একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

প্রাচীন যুগের মানুষের জীবনযাত্রা কেবল রাজা-মহারাজা আর জাদুমন্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; সেখানে ছিল অত্যন্ত গোছানো এক আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা। আরবল উপসংহার টানতে গিয়ে বলেন, “আজকে আমাদের হাতে থাকা কিউনিফর্ম (cuneiform) ট্যাবলেটগুলোর একটি বিশাল অংশ প্রমাণ করে যে, সে যুগে একটি অত্যন্ত উন্নত আমলাতন্ত্র বা ব্যুরোক্রেসি গড়ে উঠেছিল। সেসময় যে উন্নত এবং জটিল সমাজগুলো গড়ে উঠছিল, সেগুলোর সঠিক হিসাব রাখা এবং পরিচালনার জন্য একটি নিখুঁত ব্যবস্থার প্রয়োজন ছিল। আমরা এমন অসংখ্য কিউনিফর্ম ট্যাবলেট (cuneiform tablet) পেয়েছি যেগুলোতে দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত ব্যবহারিক তথ্য রয়েছে—যেমন বিভিন্ন পণ্য, কৃষিকাজ এবং কর্মীদের নামের তালিকা ও হিসাব-নিকাশ।”

cuneiform

একটি প্রাচীন বিয়ারের রসিদ!

প্রাচীন সভ্যতার দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে সাধারণ কিন্তু মজার একটি দিকও এই সংগ্রহ থেকে উঠে এসেছে। আরবল উল্লেখ করেন, “ন্যাশনাল মিউজিয়ামের এই সংগ্রহে থাকা একটি ট্যাবলেটে এমন একটি বিষয় লেখা আছে যা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের মতোই খুব সাধারণ—তা হলো বিয়ারের (beer) একটি অত্যন্ত প্রাচীন রসিদ! এটি মোটেও আশ্চর্যের বিষয় নয়, কারণ সেই সমাজেও সাধারণ মানুষের লেনদেন এবং জীবনযাত্রা বর্তমান যুগের মতোই হিসেবের ওপর চলত।”

মেসোপটেমিয়ায় বিয়ার ছিল মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম প্রধান পানীয়। এমনকি অনেক সময় শ্রমিকদের তাদের পারিশ্রমিক হিসেবেও বিয়ার দেওয়া হতো। তাই এর হিসাব রাখাটা ছিল রাষ্ট্রের অর্থনীতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অতীত অধ্যায়

৪,০০০ বছরের পুরনো এই কাদামাটির ট্যাবলেটগুলো কেবল মাটি বা পাথরের টুকরো নয়; এগুলো হচ্ছে আমাদের ফেলে আসা অতীতের এক জীবন্ত অধ্যায়। দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ডেনমার্কের ন্যাশনাল মিউজিয়ামে নীরবে পড়ে থাকা এই অমূল্য সম্পদগুলো আজ বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে কথা বলতে শুরু করেছে। কিউনিফর্ম (cuneiform) লিপির এই অসাধারণ পাঠোদ্ধার আমাদের শিখিয়েছে যে, প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার মানুষ শুধু পিরামিড বা জিগুরাত তৈরি করেই থেমে থাকেনি, বরং তারা একটি সুশৃঙ্খল সমাজ, অর্থনীতি এবং প্রশাসন গড়ে তুলেছিল।

তাদের মধ্যে জাদুবিদ্যা এবং জাদুকরী আচারের প্রতি তীব্র বিশ্বাস যেমন ছিল, ঠিক তেমনি দৈনন্দিন জীবনের হিসাব-নিকাশ, চিকিৎসা এবং আমলাতন্ত্রের প্রতিও তাদের গভীর মনোযোগ ছিল। রাজা গিলগামেশের ঐতিহাসিক অস্তিত্বের প্রমাণ থেকে শুরু করে সাধারণ একজন শ্রমিকের মদ্যপানের রসিদ—এই সবকিছুই প্রমাণ করে যে প্রাচীন মানুষের জীবনযাত্রা ছিল ঠিক আমাদের মতোই বৈচিত্র্যময়, জটিল এবং অত্যন্ত সুসংগঠিত। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এবং গবেষকদের কল্যাণে আজ আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের সেই হারিয়ে যাওয়া জগৎ সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পারছি, যা আগামীতে মানব ইতিহাস গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

আরও পড়তে ক্লিক করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top