জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্টে কী কী অধিকার পান গ্রাহক? BSBDA নিয়ে আরবিআইয়ের নির্দেশিকার পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খুলতে গিয়ে “মিনিমাম ব্যালেন্স” বা “মেনটেন্যান্স চার্জ” শুনে ফিরে এসেছেন, এমন মানুষের সংখ্যা ভারতে কম নয়। দিনমজুর, ছোট দোকানদার, গ্রামের গৃহবধূ কিংবা পড়ুয়া, যাঁদের হাতে মাসের শেষে টাকা থাকে না, তাঁদের কাছে এই শর্ত অনেক সময় ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। এই সমস্যার সমাধানেই ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই) চালু করেছে বেসিক সেভিংস ব্যাঙ্ক ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট, সংক্ষেপে BSBDA।
২০১৯ সালের ১০ জুন আরবিআই এই অ্যাকাউন্টের সুবিধা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সার্কুলার জারি করে। সেই নির্দেশিকায় কোন কোন পরিষেবা বিনামূল্যে দিতে হবে, কোন নিয়মে অ্যাকাউন্ট রাখা যাবে এবং ব্যাঙ্ক কী কী অতিরিক্ত পরিষেবা দিতে পারবে, সবই স্পষ্ট করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে সেই নির্দেশিকার মূল বিষয়গুলি সহজ ভাষায় তুলে ধরা হল।
BSBDA কী?
BSBDA হল এমন একটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট, যেখানে কিছু নির্দিষ্ট ন্যূনতম পরিষেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং ন্যূনতম ব্যালেন্স না রাখার শর্তে পাওয়া যায়। সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্টে গড় ব্যালেন্স না রাখলে জরিমানা হতে পারে। BSBDA-তে সেই ঝুঁকি নেই। অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকলেও তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বা জরিমানা কাটার কথা নয়।
আরবিআইয়ের সার্কুলারে বলা হয়েছে, BSBD অ্যাকাউন্টকে “সকলের জন্য উপলব্ধ একটি স্বাভাবিক ব্যাঙ্কিং পরিষেবা” হিসেবে গণ্য করতে হবে। অর্থাৎ এটি কোনও দয়া বা বিশেষ ছাড় নয়, এটি নাগরিকের ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পাওয়ার স্বাভাবিক অধিকারের অংশ।
কেন প্রয়োজন হল এই অ্যাকাউন্টের?
ভারতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ইতিহাস অনেকটাই এই অ্যাকাউন্টের বিবর্তনের সঙ্গে জড়িয়ে। ২০০৫ সালে আরবিআই “নো-ফ্রিলস অ্যাকাউন্ট” (NFA) চালু করে। উদ্দেশ্য ছিল, স্বল্প আয়ের মানুষ যেন কোনও অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে এক এক ব্যাঙ্ক এক এক রকম সুবিধা দিত, ফলে গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হত।
সেই সমস্যা মেটাতে ২০১২ সালের ১০ অগস্ট আরবিআই একটি সার্কুলারের মাধ্যমে NFA-র জায়গায় BSBDA কাঠামো আনে। লক্ষ্য ছিল সব ব্যাঙ্কে একই মানের, একই ধরনের অ্যাকাউন্ট নিশ্চিত করা। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে এ বিষয়ে একটি প্রশ্নোত্তর-সংক্রান্ত সার্কুলারও আসে। তারপর ২০১৯ সালের জুনের নির্দেশিকায় আগের দুটি সার্কুলারই বাতিল করে নতুন করে সুবিধাগুলি নির্ধারণ করা হয়। সার্কুলারটি কার্যকর হয় ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে।
২০১৯ সালের নির্দেশিকা: কাদের জন্য, কী বলছে?
আরবিআইয়ের এই নির্দেশিকা (নম্বর RBI/2018-19/206, DBR.LEG.BC.No.47/09.07.005/2018-19) পাঠানো হয়েছে:
- সব তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক (আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক বা RRB-সহ)
- সব পেমেন্ট ব্যাঙ্ক
- সব স্মল ফিন্যান্স ব্যাঙ্ক
- সব লোকাল এরিয়া ব্যাঙ্ক
অর্থাৎ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার প্রায় সব স্তরেই এই নিয়ম প্রযোজ্য। ব্যাঙ্কগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই বিষয়ে বোর্ড-অনুমোদিত নীতি বা পরিচালনা-নির্দেশিকা তৈরি করতে।
BSBDA-তে যে পাঁচটি সুবিধা বিনামূল্যে পাবেন
সার্কুলার অনুযায়ী, ন্যূনতম ব্যালেন্সের কোনও শর্ত ছাড়াই ব্যাঙ্কগুলিকে নিচের সুবিধাগুলি বিনামূল্যে দিতে হবে।
১. নগদ জমা দেওয়ার সুবিধা
ব্যাঙ্কের শাখায় তো বটেই, এটিএম এবং ক্যাশ ডিপোজিট মেশিনেও (CDM) নগদ টাকা জমা দেওয়া যাবে। এই পরিষেবার জন্য কোনও চার্জ নেওয়া যাবে না।
২. ইলেকট্রনিক মাধ্যমে টাকা গ্রহণ এবং সরকারি চেক জমা
যেকোনও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে টাকা আসতে পারবে। পাশাপাশি কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের সংস্থা ও দফতরের দেওয়া চেক জমা ও আদায়ের (কালেকশন) সুবিধাও বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। বেতন, পেনশন, বৃত্তি বা সরকারি ভাতা অ্যাকাউন্টে আনার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা খুব কাজের।
৩. জমার কোনও সীমা নেই
মাসে কতবার এবং কত টাকা জমা দেওয়া যাবে, তার ওপর কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। সংখ্যা বা অঙ্ক, কোনওটির ওপরই সীমা বসানো যাবে না।
৪. মাসে ন্যূনতম চারটি উত্তোলন
প্রতি মাসে অন্তত চারবার টাকা তোলার সুবিধা বিনামূল্যে দিতে হবে। এর মধ্যে এটিএম থেকে তোলাও ধরা হবে। “ন্যূনতম” শব্দটি লক্ষণীয়। ব্যাঙ্ক চাইলে এর চেয়ে বেশি সুবিধা দিতে পারে, কিন্তু চারটির কম দেওয়া যাবে না।
৫. এটিএম কার্ড বা এটিএম-কাম-ডেবিট কার্ড
অ্যাকাউন্ট ধারক একটি এটিএম কার্ড বা এটিএম-কাম-ডেবিট কার্ড দিতে হবে। এটি ব্যাঙ্কের প্রতিশ্রুত বিনামূল্যের পরিষেবার অংশ।
এটিএম ব্যবহারে বড় স্পষ্টীকরণ
২০১৪ সালের অগস্ট ও অক্টোবরে সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্টের জন্য নিজের ব্যাঙ্ক ও অন্য ব্যাঙ্কের এটিএমে কতবার বিনামূল্যে লেনদেন করা যাবে, তা নিয়ে দুটি সার্কুলার জারি হয়েছিল। ২০১৯ সালের নির্দেশিকায় পরিষ্কার বলা হয়েছে, সেই সার্কুলারগুলির নিয়ম BSBDA-র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
তার মানে, BSBDA-ধারীর ন্যূনতম বিনামূল্যের উত্তোলনগুলি নিজের ব্যাঙ্ক বা অন্য ব্যাঙ্ক, সব এটিএম থেকেই করা যাবে। কোন ব্যাঙ্কের মেশিন, তা নিয়ে আলাদা করে ভাবতে হবে না।

অতিরিক্ত পরিষেবা দিলে কি অ্যাকাউন্টের চরিত্র বদলে যায়?
এ নিয়ে অনেক দিন ধরেই ধোঁয়াশা ছিল। ২০১৯ সালের নির্দেশিকা তা কাটিয়ে দিয়েছে। সার্কুলারের তৃতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে:
- ব্যাঙ্ক চেক বই-সহ আরও নানা অতিরিক্ত মূল্য-সংযোজিত পরিষেবা (value-added services) দিতে পারে।
- এই পরিষেবার জন্য ব্যাঙ্ক চার্জ নিতেও পারে, না-ও নিতে পারে। তবে চার্জ হলে তা হতে হবে বৈষম্যহীনভাবে এবং আগে থেকে প্রকাশ করে (disclosure)।
- এই পরিষেবা নেওয়া বা না নেওয়া সম্পূর্ণ গ্রাহকের ইচ্ছাধীন।
- অতিরিক্ত পরিষেবা দেওয়ার অজুহাতে ব্যাঙ্ক ন্যূনতম ব্যালেন্স রাখার দাবি করতে পারবে না।
- ন্যূনতম পরিষেবাগুলি বিনামূল্যে দেওয়া হলে অতিরিক্ত পরিষেবা দিলেও অ্যাকাউন্টটি BSBDA-ই থাকবে।
সহজ করে বললে, আপনি যদি টাকা দিয়ে চেক বই নেন, তাতে আপনার অ্যাকাউন্ট সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্টে পরিণত হয়ে যাবে না এবং ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স রাখার শর্তও চাপাতে পারবে না।
একটি ব্যাঙ্কে একাধিক সেভিংস অ্যাকাউন্ট?
BSBDA-র সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধিনিষেধ রয়েছে। সার্কুলারের চতুর্থ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী:
- একই ব্যাঙ্কে BSBDA থাকলে সেখানে আর কোনও সেভিংস অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে না।
- কারও যদি ওই ব্যাঙ্কে আগে থেকেই অন্য সেভিংস অ্যাকাউন্ট থাকে, তবে BSBDA খোলার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সেটি বন্ধ করে দিতে হবে।
- BSBDA খোলার আগে ব্যাঙ্ককে গ্রাহকের কাছ থেকে একটি ঘোষণাপত্র নিতে হবে যে তাঁর অন্য কোনও ব্যাঙ্কে BSBDA নেই।
এখানে একটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। সার্কুলারে সরাসরি বলা আছে, অন্য ব্যাঙ্কে BSBDA থাকা চলবে না। অন্য ব্যাঙ্কে সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্ট রাখা নিয়ে এই সার্কুলারে আলাদা করে কোনও বাধা নেই। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের নীতি জেনে নেওয়াই ভাল।
কেওয়াইসি ও অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং
জিরো ব্যালেন্স মানে নিয়মকানুনহীন নয়। সার্কুলারের পঞ্চম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, BSBDA-ও কেওয়াইসি (Know Your Customer) ও এএমএল (Anti-Money Laundering) সংক্রান্ত আরবিআইয়ের নির্দেশ মানতে বাধ্য। এ ক্ষেত্রে ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির ‘মাস্টার ডিরেকশন — কেওয়াইসি ডিরেকশন, ২০১৬’ (সময়ে সময়ে সংশোধিত) প্রযোজ্য।
অর্থাৎ অ্যাকাউন্ট খুলতে পরিচয় ও ঠিকানার বৈধ নথি লাগবে। যাঁদের কাছে পূর্ণাঙ্গ নথি নেই, তাঁদের জন্য কেওয়াইসি নির্দেশিকায় “স্মল অ্যাকাউন্ট”-এর মতো সরলীকৃত ব্যবস্থা রয়েছে। এতে সাধারণত স্ব-প্রত্যয়িত ছবি ও সই দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা যায়, তবে ব্যালেন্স ও বছরে জমার ওপর সীমা থাকে। বর্তমান সীমা এবং শর্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা আরবিআইয়ের সর্বশেষ নির্দেশিকা থেকে যাচাই করে নেওয়া উচিত, কারণ কেওয়াইসি নিয়ম সময়ে সময়ে সংশোধিত হয়।
সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্ট বনাম BSBDA: মূল পার্থক্য
| বিষয় | BSBDA | সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্ট |
|---|---|---|
| ন্যূনতম ব্যালেন্স | লাগে না | ব্যাঙ্ক ও অঞ্চলভেদে ভিন্ন, না রাখলে জরিমানা হতে পারে |
| বিনামূল্যে উত্তোলন | মাসে ন্যূনতম ৪টি, যেকোনও ব্যাঙ্কের এটিএমে | ব্যাঙ্কের নীতি অনুযায়ী |
| জমার সীমা | মাসে সংখ্যা ও অঙ্কে কোনও সীমা নেই | ব্যাঙ্কভেদে ভিন্ন |
| এটিএম/ডেবিট কার্ড | বিনামূল্যে | সাধারণত থাকে, তবে বার্ষিক চার্জ লাগতে পারে |
| একই ব্যাঙ্কে অন্য সেভিংস অ্যাকাউন্ট | রাখা যায় না | রাখা যায় |
জন-ধন যোজনা ও সরাসরি সুবিধা হস্তান্তরে ভূমিকা
আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আলোচনায় BSBDA-র কথা এলে প্রধানমন্ত্রী জন-ধন যোজনার (PMJDY) প্রসঙ্গ আসবেই। ২০১৪ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে খোলা অ্যাকাউন্টগুলি কাঠামোগতভাবে BSBDA-রই আওতায় পড়ে। জিরো ব্যালেন্স এবং বিনামূল্যের কার্ডের সুবিধা থাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষকে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় আনা সম্ভব হয়েছে।
একইভাবে, সরকারি সংস্থার চেক জমা এবং ইলেকট্রনিক মাধ্যমে টাকা গ্রহণের সুবিধা বিনামূল্যে থাকায় ভর্তুকি, পেনশন ও বৃত্তির মতো সরকারি সুবিধা সরাসরি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে পাঠানো সহজ হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা কমেছে এবং লিকেজের সম্ভাবনাও কমেছে বলে নীতি-বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন।
এখনও কোথায় সমস্যা?
কাগজে-কলমে সুবিধা থাকলেও বাস্তবে কিছু চ্যালেঞ্জ থেকে গিয়েছে।
১. নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট: অনেক অ্যাকাউন্ট খোলা হলেও নিয়মিত ব্যবহার হয় না। সরকারি অনুদান ঢুকতেই পুরোটা তুলে নেওয়ার প্রবণতা থাকে, ফলে ব্যালেন্স শূন্যে ঘোরাফেরা করে। এতে অ্যাকাউন্ট আছে ঠিকই, কিন্তু সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি হয় না।
২. সচেতনতার অভাব: অনেক গ্রাহকই জানেন না, তাঁরা কোন কোন সুবিধা বিনামূল্যে পাওয়ার অধিকারী। ফলে ভুল চার্জ কাটা হলেও প্রশ্ন ওঠে না। অনেকে আবার প্রতারণা বা লুকোনো চার্জের ভয়ে এটিএম ও ডিজিটাল মাধ্যম এড়িয়ে চলেন।
৩. ব্যাঙ্কের দিকের চাপ: কম আয়ের অ্যাকাউন্ট সামলানো ব্যাঙ্কের কাছে ব্যয়সাপেক্ষ। এ কারণে কিছু ক্ষেত্রে শাখা-স্তরে নতুন BSBDA খুলতে অনীহা দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে।
সমাধানের পথ: বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় ভাষায় আর্থিক সাক্ষরতা প্রচার এবং ব্যাঙ্ক মিত্র (বিজনেস করেসপন্ডেন্ট) নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করাই এর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
গ্রাহকদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ
- অ্যাকাউন্ট খোলার সময় স্পষ্ট করে বলুন, আপনি BSBDA খুলতে চান। প্রয়োজনে সার্কুলারের নম্বর উল্লেখ করতে পারেন।
- অন্য ব্যাঙ্কে BSBDA নেই, এই মর্মে ঘোষণাপত্র দিতে হবে। তাই আগে থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।
- একই ব্যাঙ্কে পুরনো সেভিংস অ্যাকাউন্ট থাকলে ৩০ দিনের মধ্যে তা বন্ধ করার কথা মাথায় রাখুন।
- চেক বই বা অন্য অতিরিক্ত পরিষেবা নিতে বাধ্য নন। নিলে চার্জ কত, তা আগে জেনে নিন।
- মাসে চারটির বেশি উত্তোলন করলে ব্যাঙ্কের নিজস্ব নীতি অনুযায়ী চার্জ লাগতে পারে। তাই ব্যাঙ্কের ফি-তালিকা দেখে নিন।
- অভিযোগ থাকলে প্রথমে ব্যাঙ্কের গ্রিভান্স সেল, তারপর প্রয়োজনে আরবিআইয়ের ব্যাঙ্কিং ওম্বুডসম্যানের দ্বারস্থ হতে পারেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: BSBDA খুলতে কি কোনও আয়ের সীমা আছে?
আরবিআইয়ের সার্কুলারে এমন কোনও আয়ের সীমা উল্লেখ নেই। এটি সকলের জন্য উপলব্ধ স্বাভাবিক ব্যাঙ্কিং পরিষেবা। তবে সীমিত সুবিধার কারণে বেশি লেনদেনকারী ব্যক্তির পক্ষে এটি সুবিধাজনক না-ও হতে পারে।
প্রশ্ন ২: মাসে চারটির বেশি টাকা তুললে কী হবে?
আরবিআই ন্যূনতম চারটি উত্তোলন বিনামূল্যে দিতে বলেছে। এর বেশি উত্তোলনের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক তার নিজস্ব নীতি অনুযায়ী চার্জ নিতে পারে, তবে সেই নীতি হবে বোর্ড-অনুমোদিত ও প্রকাশিত।
প্রশ্ন ৩: চেক বই নিলে কি অ্যাকাউন্ট সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্টে পরিণত হবে?
না। অতিরিক্ত পরিষেবা নিলেও ন্যূনতম পরিষেবাগুলি বিনামূল্যে থাকলে অ্যাকাউন্টটি BSBDA-ই থাকবে এবং ব্যাঙ্ক ন্যূনতম ব্যালেন্স চাইতে পারবে না।
প্রশ্ন ৪: BSBDA-র এটিএম উত্তোলন কি শুধু নিজের ব্যাঙ্কের মেশিনে?
না। ন্যূনতম বিনামূল্যের উত্তোলনগুলি নিজের ব্যাঙ্ক ও অন্য ব্যাঙ্ক, সব এটিএম থেকেই করা যাবে।
প্রশ্ন ৫: জন-ধন অ্যাকাউন্ট আর BSBDA কি আলাদা?
জন-ধন অ্যাকাউন্ট কাঠামোগতভাবে BSBDA-র আওতায় পড়ে। এ কারণে BSBDA-র ন্যূনতম বিনামূল্যের সুবিধা ও নিয়ম এতে প্রযোজ্য হয়।
বেসিক সেভিংস ব্যাঙ্ক ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট ভারতের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নীতির অন্যতম ভিত্তি। ২০১৯ সালের আরবিআই নির্দেশিকা এই অ্যাকাউন্টের ন্যূনতম সুবিধাগুলিকে স্পষ্ট করেছে, এটিএম ব্যবহার নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করেছে এবং অতিরিক্ত পরিষেবার ক্ষেত্রেও গ্রাহকের ইচ্ছা ও স্বচ্ছতাকে গুরুত্ব দিয়েছে।
তবে অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়াই শেষ কথা নয়। এই অ্যাকাউন্ট যখন সঞ্চয়, বিমা ও ক্ষুদ্রঋণের মতো পরিষেবার প্রবেশপথ হয়ে উঠবে, তখনই আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য পূর্ণ হবে। সেই পথে গ্রাহকের সচেতনতা এবং ব্যাঙ্কের সদিচ্ছা, দুটিই সমান জরুরি।
জানুন আরও খবর! পড়ুন বুলেটিন বাংলা