প্রাগৈতিহাসিক দন্তচিকিৎসা: ৫৯,০০০ বছর আগে নিয়ান্ডারথালদের (Neanderthals) পাথর দিয়ে দাঁত ড্রিল করার অবিশ্বাস্য ইতিহাস
প্রাগৈতিহাসিক সভ্যতার এক নতুন দিগন্ত
মানব সভ্যতার ইতিহাস এবং বিবর্তনের ধারা নিয়ে আমাদের কৌতুহলের শেষ নেই। আদিম মানুষ বলতে সাধারণত আমাদের চোখে ভেসে ওঠে গুহাবাসী, হিংস্র এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে অনগ্রসর একদল প্রাণীর ছবি। বিশেষ করে ‘নিয়ান্ডারথাল’ (Neanderthals) প্রজাতিটিকে দীর্ঘকাল ধরে আধুনিক মানুষের (Homo sapiens) তুলনায় অনেক পিছিয়ে থাকা, স্থূলবুদ্ধিসম্পন্ন এক উপজাতি হিসেবে গণ্য করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলো এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করছে।
সাইবেরিয়ার এক দুর্গম গুহায় পাওয়া প্রায় ৫৯,০০০ বছর পুরনো একটি দাঁতের জীবাশ্ম বা ফসিল মানব ইতিহাসের চিকিৎসাবিজ্ঞানের টাইমলাইনকে পুরোপুরি ওলটপালট করে দিয়েছে। এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, যখন আধুনিক মানুষ সভ্যতার প্রাথমিক স্তর পার করছিল, তখন নিয়ান্ডারথালরা (Neanderthals) পাথর দিয়ে তৈরি সূক্ষ্ম ড্রিল মেশিনের সাহায্যে দাঁতের ক্যাভিটি বা ক্ষয়রোগের চিকিৎসা করছিল। এটি কেবল চিকিৎসার ইতিহাসেই নয়, বরং আদিম মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক এবং মানসিক সক্ষমতার এক অনন্য দলিল।

আবিষ্কারের প্রেক্ষাপট ও স্থান: চাগিরস্কায়া গুহার রহস্য
রাশিয়ার দক্ষিণ সাইবেরিয়ায় অবস্থিত ‘চাগিরস্কায়া’ (Chagyrskaya) গুহাটি দীর্ঘকাল ধরেই প্রত্নতাত্ত্বিকদের জন্য এক সোনার খনি। এই গুহা থেকে এর আগেও বহু নিয়ান্ডারথাল (Neanderthal) কঙ্কালের অবশিষ্টাংশ এবং হাজার হাজার পাথরের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি এই গুহায় পাওয়া একটি নিচের মাড়ির দাঁত (Lower Molar) গবেষকদের চমকে দিয়েছে।
বিজ্ঞানীরা রেডিওকার্বন ডেটিং এবং অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে নিশ্চিত হয়েছেন যে, এই দাঁতটি আজ থেকে প্রায় ৫৯,০০০ বছর আগের। দাঁতটির একদম মাঝখানে একটি গভীর গর্ত বা হোল দেখা গেছে, যা কোনো প্রাকৃতিক কারণে বা ভাঙার ফলে তৈরি হয়নি। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে, কৃত্রিম উপায়ে কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে এই গর্তটি করা হয়েছিল। এই আবিষ্কারটি প্রথম প্রমাণ করে যে, আধুনিক মানুষ বা হোমো স্যাপিয়েন্সদের বাইরেও অন্য কোনো মানব প্রজাতি দন্তচিকিৎসার মতো জটিল এবং আক্রমণাত্মক (Invasive) চিকিৎসায় পারদর্শী ছিল।
নিয়ান্ডারথাল (Neanderthal) ডেন্টিস্ট্রি: কীভাবে করা হয়েছিল এই চিকিৎসা?
রাশিয়ান অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেসের সাইবেরিয়ান শাখার প্রত্নতাত্ত্বিক ড. ক্সেনিয়া কোলোবোভা (Dr Kseniya Kolobova) এবং তাঁর দল এই দাঁতটি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা চালিয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, দাঁতের ভেতরের মজ্জা বা পাল্প ক্যাভিটি (Pulp Cavity) পর্যন্ত এই গর্তটি বিস্তৃত ছিল।
মাইক্রোস্কোপিক এক্স-রে ইমেজিং (Microscopic X-ray Imaging) বা অতিসূক্ষ্ম এক্স-রে প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, দাঁতটিতে মারাত্মক ক্ষয়রোগ বা ‘টুথ ডেকে’ ছিল। তীব্র ব্যথার হাত থেকে মুক্তি পেতেই এই ড্রিলিং করা হয়েছিল।
পাথরের ড্রিল এবং আদিম প্রযুক্তি
তৎকালীন সময়ে আধুনিক কোনো ধাতু বা যন্ত্রপাতি ছিল না। তাহলে কীভাবে এই শক্ত দাঁত ফুটো করা সম্ভব হলো? গবেষকরা চাগিরস্কায়া গুহায় প্রাপ্ত স্থানীয় ‘জ্যাসপার’ (Jasper) নামক এক ধরণের অত্যন্ত শক্ত পাথর পরীক্ষা করেন। তারা দেখেন, এই পাথর দিয়ে তৈরি সরু, লম্বা এবং সুচাল সরঞ্জাম প্রাগৈতিহাসিক যুগে ড্রিল হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
গবেষণার সত্যতা যাচাই করতে বিজ্ঞানীরা তিনটি আধুনিক মানুষের দাঁতের ওপর পরীক্ষা চালান। তারা দেখেন যে, জ্যাসপার পাথরের তৈরি একটি সূক্ষ্ম কাঠিকে দুই আঙুলের সাহায্যে ক্রমাগত ঘুরিয়ে (Manually Rotating) ঠিক একই রকমের গর্ত এবং মাইক্রোস্কোপিক খাঁজ তৈরি করা সম্ভব। তবে এই কাজ মোটেও সহজ ছিল না। আধুনিক মানুষের দাঁতের ডেন্টিন ভেদ করে এতটা গভীরে যেতে প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ মিনিট অবিরাম হাত ঘুরিয়ে কাজ করতে হয়েছিল। ৫৯,০০০ বছর আগে একজন নিয়ান্ডারথাল (Neandeethal) চিকিৎসক ঠিক এই পদ্ধতিতেই তাঁর রোগীর দাঁত ফুটো করেছিলেন।
আধুনিক চিকিৎসকদের চোখে প্রাগৈতিহাসিক “রুট ক্যানেল”
নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির ওরোফেসিয়াল পেইন (Orofacial Pain) বিভাগের অধ্যাপক এবং ব্রিটিশ ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা জাস্টিন ডানহাম (Justin Durham) এই দাঁতের ছবি এবং এক্স-রে রিপোর্ট পর্যালোচনা করেছেন। আধুনিক দন্তচিকিৎসার দৃষ্টিকোণ থেকে এই আদিম চিকিৎসাকে তিনি অত্যন্ত উচ্চ মানের বলে অভিহিত করেছেন।
অধ্যাপক ডানহামের মতে,
“আমি যদি কোনো ডেন্টিস্ট্রির ছাত্রকে এই কাজের জন্য নম্বর দিতাম, তবে হয়তো ‘এ’ গ্রেড দিতাম না, তবে তৎকালীন পরিস্থিতি বিবেচনা করলে এটি একটি অবিশ্বাস্য রকমের চমৎকার কাজ (Decent Job)। এটিকে আধুনিক ‘রুট ক্যানেল’ চিকিৎসার একেবারে প্রাথমিক রূপ বলা যেতে পারে।”
ব্যথা উপশমের বৈজ্ঞানিক কৌশল
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, দাঁত হলো একটি বন্ধ বাক্সের মতো। যখন দাঁতের ভেতরে ইনফেকশন বা সংক্রমণ হয়, তখন ভেতরে এক ধরণের গ্যাস ও পুঁজ তৈরি হয় যা প্রচণ্ড চাপের সৃষ্টি করে। এই চাপের কারণেই আমাদের দাঁতে তীব্র, দপদপ করা ব্যথা (Throbbing Toothache) অনুভূত হয়। ৫৯,০০০ বছর আগের সেই নিয়ান্ডারথাল (Neanderthal) চিকিৎসক কোনোভাবে এই চাপ সৃষ্টির বৈজ্ঞানিক বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন। দাঁতের ওপর বড় একটি গর্ত করে দেওয়ার ফলে ভেতরের অবরুদ্ধ চাপ মুক্ত হয়ে গিয়েছিল, যা রোগীকে সাময়িকভাবে তীব্র যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিয়েছিল।
আজকের দিনে একজন ডেন্টিস্টকে দাঁতের এনামেল ভেদ করতে প্রতি মিনিটে ৪০,০০০ বার ঘোরে এমন ডায়মন্ড-টিপড বার (Diamond-tipped burrs) ব্যবহার করতে হয়। সেখানে শুধুমাত্র একটি পাথরের টুকরো দিয়ে এই কাজ করা সত্যিই এক অভাবনীয় বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়।
রোগী কি বেঁচে ছিলেন? আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সহনশীলতার এক অনন্য উদাহরণ
এই গবেষণার অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো, চিকিৎসার পর রোগীর বেঁচে থাকার প্রমাণ। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, ড্রিল করা গর্তের চারপাশের প্রান্তগুলো বেশ মসৃণ ছিল এবং দাঁতটির ভেতরের ক্ষয় ও ব্যবহারের ধরণ (Wear Patterns) ইঙ্গিত করে যে, এই যন্ত্রণাদায়ক অস্ত্রোপচারের পরও ওই নিয়ান্ডারথাল ব্যক্তি বেশ কিছুদিন বেঁচে ছিলেন এবং ওই দাঁত দিয়ে খাবার চিবিয়ে খেয়েছিলেন।
তবে দাঁতটিতে কোনো ফিলিং বা পুটি জাতীয় উপাদান ব্যবহার না করায়, পরবর্তীতে এটি আবার ক্রনিক ইনফেকশনের শিকার হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
অবিশ্বাস্য মানসিক শক্তি
অ্যানেস্থেশিয়া বা অবশ করার ওষুধ ছাড়া এই ধরণের ড্রিলিং কতটা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। রাশিয়ান অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেসের প্রত্নতাত্ত্বিক এবং এই গবেষণার সহ-লেখক ড. লিডিয়া জোতকিনা (Dr Lydia Zotkina) রোগীর মানসিক শক্তির প্রশংসা করে বলেন,
“যিনি এই চিকিৎসা নিয়েছিলেন, তিনি অত্যন্ত দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির অধিকারী ছিলেন। তিনি নিশ্চিতভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন যে, এই প্রক্রিয়ার সাময়িক কষ্টটি দাঁতের ইনফেকশনের দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণার চেয়ে অনেক ভালো। এই ধরণের আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রাগৈতিহাসিক মানুষের ক্ষেত্রে সত্যিই বিরল।”
নিয়ান্ডারথালদের সামাজিক ও মানবিক গুণাবলী
এই আবিষ্কার কেবল চিকিৎসার দক্ষতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি নিয়ান্ডারথাল (Neanderthal) সমাজের পারস্পরিক সহানুভূতি এবং সামাজিক কাঠামোর দিকেও আলো ফেলে। দাঁত ড্রিল করার জন্য একজন দক্ষ কারিগর বা চিকিৎসকের প্রয়োজন ছিল, যার অর্থ তাদের সমাজে শ্রম বিভাজন এবং বিশেষায়িত জ্ঞান ছিল।
এর আগেও নিয়ান্ডারথালদের (Neanderthals) মানবিক গুণের বেশ কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে:
-
অসুস্থদের সেবা: প্রত্নতাত্ত্বিকরা অতীতে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নিয়ান্ডারথাল (Neanderthal) পুরুষের কঙ্কাল পেয়েছিলেন যার একটি হাত ছিল শুকিয়ে যাওয়া এবং দুই পায়েই বিকলাঙ্গতা ছিল। তা সত্ত্বেও তিনি বহু বছর বেঁচে ছিলেন, যার অর্থ সমাজের অন্য সদস্যরা তাকে ফেলে দেয়নি, বরং খাইয়ে-দাইয়ে বাঁচিয়ে রেখেছিল।
-
ডাউন সিন্ড্রোম শিশুর যত্ন: আরেকটি আবিষ্কারে দেখা গেছে, ডাউন সিন্ড্রোমে আক্রান্ত একটি নিয়ান্ডারথাল (Neanderthal) শিশু অন্তত ছয় বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিল, যা তৎকালীন কঠোর প্রাকৃতিক পরিবেশে পরিবারের নিবিড় যত্ন ছাড়া অসম্ভব ছিল।
এই নতুন দন্তচিকিৎসার আবিষ্কারটি প্রমাণ করে যে, নিয়ান্ডারথালরা (Neanderthals) কেবল দয়ালু বা সহানুভূতিশীলই ছিল না, বরং তাদের মধ্যে অত্যন্ত জটিল ও বিজ্ঞানসম্মত চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটেছিল।
নিয়ান্ডারথালদের (Neanderthals) নিয়ে প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কারের অবসান
বহু বছর ধরে জনপ্রিয় সংস্কৃতি এবং পাঠ্যপুস্তকে নিয়ান্ডারথালদের (Neanderthals) “বর্বর”, “অসভ্য” বা “বিবর্তনের ধারায় ব্যর্থ” এক প্রজাতি হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু এই নতুন আবিষ্কার সেই পুরনো ও সেকেলে ধারণার কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিল।
ড. ক্সেনিয়া কোলোবোভার ভাষায়, এই আবিষ্কার পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে যে নিয়ান্ডারথালরা (Neanderthals) কোনো নিকৃষ্ট প্রজাতি ছিল না। তারা ছিল অত্যন্ত উন্নত এবং জটিল জ্ঞানীয় (Cognitive) ও সাংস্কৃতিক ক্ষমতার অধিকারী এক মানব গোষ্ঠী। আক্রমণাত্মক চিকিৎসাপদ্ধতি বা ইনভেসিভ মেডিকেল ট্রিটমেন্টের এই প্রমাণ তাদের উন্নত আচরণের তালিকায় এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
বিবর্তন ও চিকিৎসার ইতিহাসে এই আবিষ্কারের গুরুত্ব
এই আবিষ্কারের আগে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রাচীনতম নিদর্শনগুলো সাধারণত হোমো স্যাপিয়েন্স বা আধুনিক মানুষের সাথেই জড়িত ছিল, যা বড়জোর ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ বছর পুরনো (যেমন নব্যপ্রস্তর যুগের দাঁত ড্রিলিং)। কিন্তু সাইবেরিয়ার এই দাঁতটি ডেন্টিস্ট্রির ইতিহাসকে এক ধাক্কায় আরও ৪০,০০০ বছর পিছিয়ে নিয়ে গেল এবং প্রমাণ করল যে হোমো স্যাপিয়েন্সদের অনেক আগেই অন্য একটি মানব প্রজাতি এই বিদ্যায় পারদর্শী হয়ে উঠেছিল।
| বৈশিষ্ট্য | নিয়ান্ডারথাল দন্তচিকিৎসা (চাগিরস্কায়া) | আধুনিক আদিম দন্তচিকিৎসা (নব্যপ্রস্তর যুগ) |
| সময়কাল | প্রায় ৫৯,০০০ বছর আগে | প্রায় ৯,০০০ থেকে ১৪,০০০ বছর আগে |
| মানব প্রজাতি | নিয়ান্ডারথাল (Homo neanderthalensis) | আধুনিক মানুষ (Homo sapiens) |
| ব্যবহৃত উপাদান | জ্যাসপার পাথর (Jasper Stone) | ফ্লিন্ট পাথর বা হাড্ডির ড্রিল |
| উদ্দেশ্য | তীব্র দাঁতের ব্যথা ও ইনফেকশন উপশম | ক্যাভিটি পরিষ্কার ও ফিলিং-এর চেষ্টা |
উপসংহার: প্রাগৈতিহাসিক অতীত থেকে শিক্ষা
৫৯,০০০ বছর আগের সাইবেরিয়ার সেই গুহায়, পাথরের আলো-আঁধারিতে বসে একজন মানুষ যখন অন্য একজন মানুষের দাঁত পাথর দিয়ে ফুটো করছিল, তখন আসলে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানেরই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হচ্ছিল। আজ আমরা যখন অত্যাধুনিক, ব্যথাহীন ডেন্টাল ক্লিনিকে গিয়ে উন্নত প্রযুক্তির সুবিধা নিই, তখন আমাদের মনে রাখা উচিত যে এই চিন্তার সূত্রপাত হয়েছিল আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে, অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকা আমাদেরই আদিম জ্ঞাতি ভাইদের হাত ধরে।
চাগিরস্কায়ায় প্রাপ্ত এই একটিমাত্র দাঁত আমাদের শেখায় যে, মানুষের বুদ্ধিমত্তা, টিকে থাকার লড়াই এবং পরোপকারের মানসিকতা কোনো নির্দিষ্ট যুগ বা প্রজাতির একচেটিয়া অধিকার নয়। এটি প্রকৃতির বুকে খোদাই করা বিবর্তনের এক চিরন্তন মহাকাব্য।
তথ্যসূত্র: এই প্রবন্ধটি রাশিয়ান অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস এবং নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির গবেষকদের দ্বারা বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী PLOS One-এ প্রকাশিত গবেষণা ও প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে রচিত।
আরও পড়তে দেখুন বুলেটিন বাংলা

