বজ্রপাত (Lightning Strike) আর ঝড় মোটেই আকাশের আচমকা খেয়ালখুশি নয়, বরং এর পিছনেও রয়েছে বার্তা–সমৃদ্ধ একটি “প্রাকৃতিক সূত্র”। আগে মনে করা হত, শুধু আকাশের মেঘ, বাতাসের চাপ আর গতি দেখলেই বুঝে ফেলা যাবে কোথায় কখন ধেয়ে আসবে ঝড়–বৃষ্টি আর বাজ। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে, শুধু আকাশ নয়, “মাটি”–ই হতে পারে পূর্বাভাসের গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এই বিষয়টি খুব সহজ ভাষায় বোঝানো যাক, যাতে আপনারাও বুঝতে পারেন কীভাবে মাটির আর্দ্রতা থেকে ঘুরে ঘুরে আসে বাজ আর ঝড়।
কী বলছে নতুন গবেষণা?
ব্রিটেনের একদল বিজ্ঞানী আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির একটি বড় অংশে ২০ বছর ধরে বজ্রপাত (Lightning Strike) আর ঝড় পর্যবেক্ষণ করেছেন। তাঁদের গবেষণার ফল হল, বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড় মোটেই আকস্মিক আঘাত নয়; তার আগে কিছু সূত্র কাজ করে। তবে শুধু বায়ুমণ্ডলের দিকে নজর দিলে চলবে না, “মাটির আর্দ্রতা”–ও দেখতে হবে। গরম দুপুরে হঠাৎ মোবাইলে চলে আসা “ঝড়–বৃষ্টি সম্ভব” সে সম্পূর্ণ ভাবে নির্ভরযোগ্য নাও হতে পারে, কারণ তাতে সাধারণত বলা হয় “এলাকাজুড়ে বৃষ্টি”, কিন্তু কোথায় ঠিক বাজ পড়বে বা কোন গ্রাম/শহরে প্রচণ্ড ঝড় আসবে, সেটা স্পষ্ট করে যায় না। আধুনিক গবেষণা সেই ফাঁক মেটাতে চাইছে।
মাটির ভেজা‑শুকনো ভাব কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, যেখানে মাটি শুকনো, সেখানে দুপুরের গরমে মাটি দ্রুত গরম হয়ে যায়। গরম মাটি থেকে ঊর্ধ্বদিকে ওঠে গরম বাতাস। আর যেখানে মাটি ভিজে থাকে, সেখানে মাটি দীর্ঘক্ষণ একটু ঠান্ডা থাকে, তাই তাপের উত্থান সামান্য কম হয়। এই দু’ধরনের মাটির আর্দ্রতা মিলে ভূপৃষ্ঠের কাছের বাতাসের চাপ, গতি আর তাপমাত্রায় ছোট‑বড় প্রভাব ফেলে। এই মিথস্ক্রিয়াই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে উপরে, আকাশে মেঘ তৈরি হতে থাকে। এক সময় সেই মেঘ থেকে হয় ঝলকানি, বাজ পড়ে, প্রবল বাতাস হয়ে আসে নেমে।
এই কারণে, বিজ্ঞানীরা আর শুধু আকাশের কথা ভাবেন না, মাটির ভেজা‑শুকনো অবস্থা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তাও পরিমাপ করছেন। বায়ুমণ্ডলের নীচের স্তরের বাতাসের সঙ্গে মাটির আর্দ্রতার যোগফলে একটি “নিয়মতান্ত্রিক ধারণা” বা “প্যাটার্ন” তৈরি হয়, যাকে ধরে পরবর্তীতে বাজ আর ঝড়ের সম্ভাব্য জায়গা হিসেব করা যাচ্ছে।
সাহারা মরুভূমির উপর দীর্ঘ গবেষণা
বিজ্ঞানীরা ২০০৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সাহারার একটি অংশে প্রায় ২২ লক্ষ ঝড় ও বজ্রপাতের সময় বাতাসের গতি, আর্দ্রতা, চাপ, উষ্ণতা এবং মাটির ভেজা‑শুকনো অবস্থা ধরে রেখেছেন। এই তথ্য নেওয়া হয়েছে উপগ্রহ থেকে আসা চিত্র, আবহাওয়া স্টেশন আর বিভিন্ন যন্ত্র থেকে। এই বিশাল ডেটা পর্যবেক্ষণ করে তাঁরা একটা বিষয় পরিষ্কার দেখতে পেয়েছেন—প্রতিবার ঝড়ের আগে মাটির আর্দ্রতা আর নীচের স্তরের বাতাসের কিছু নির্দিষ্ট শৈলী কাজ করে।
আর এই “নির্দিষ্ট শৈলী” বা প্যাটার্ন ধরলে পূর্বেই বলা যায় যে, কোন ধরনের ঝড় আসতে পারে, কোথায় বাজ পড়ার (Lightning Strike) সম্ভাবনা বেশি। এই কাজে বিজ্ঞানীরা এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা AI–এর সাহায্যও নিচ্ছেন। উপগ্রহ, মাটির সেন্সর আর আবহাওয়া মাপার যন্ত্র থেকে আসা তথ্য AI–এ দিলে সেটি শিখে যায়, “এই ধরনের দুই‑তিনটি পরিস্থিতি মিললে পরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঝড় আসবে, এই এলাকায় বাজ পড়ার ঝুঁকি বেশি”–এমন ধরনের পূর্বাভাস বানাতে পারে। এভাবেই ঝড় বা বাজের সময় আগে থেকেই খবর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই পূর্বাভাস?
বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়–বৃষ্টি শুধু বৃষ্টি আর বাতাস বলে ভাবা ঠিক নয়। স্ট্যাটিসটিক্স বলছে, ২০১০ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত পৃথিবীজুড়ে এ ধরনের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল, কৃষিজমি, খোলা মাঠ, আর উঁচু গাছ–এই সব জায়গায় থাকলে বাজ পড়ার (Lightning Strike) সময় বেঁচে ওঠা সহজ নয়। তাই যদি পূর্বেই বলে দেওয়া যায়, “এই অঞ্চলে আগামী ছ’ ঘণ্টা মধ্যে প্রবল বজ্রপাত (Lightning Strike) সম্ভব, মাঠে কাজ করা বন্ধ করুন, খোলা জায়গা থেকে সরে যান”, তাহলে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো যায়।
এই ধরনের পূর্বাভাস সিগন্যাল হতে পারে বৈদ্যুতিক সংযোগ, মোবাইল টাওয়ার, বিমানবন্দর, বাঁধ আর কৃষি ক্ষেত্রের জন্যও। বৃষ্টির আগেই জেনে নিলে কৃষক যদি জল দিয়ে মাটি ভিজিয়ে রাখে, তাহলে ঝড়ের তীব্রতা হয়তো কিছুটা কমবে কিংবা বাজ পড়ার সম্ভাবনা অনেকটা কমে যাবে। এই ধরনের প্রস্তুতি শুধু কৃষির জন্য নয়, বিদ্যুৎ লাইন, বিল্ডিং–এর ব্যবস্থাপনায় সাহায্য করবে।
বায়ুচাপ আর মাটির আর্দ্রতা—দু’টি মূল ফ্যাক্টর
এ যাবৎ বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন, যদি বায়ুমণ্ডলের চাপ, বাতাসের গতি আর চলাচলের দিক নিয়ন্ত্রণ বোঝা যায়, তাহলে প্রায় সব ঝড় বোঝা যাবে। কিন্তু নতুন গবেষণা দেখাচ্ছে, বাজ (Lightning) আর ঝড় শুধু আকাশের খেলা নয়; তার পিছনে মাটির গভীরে লুকিয়ে থাকা কিছু প্রাকৃতিক সূত্র কাজ করে। এই বার্তাটাই আরও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন ব্রিটেনের একদল বিজ্ঞানী আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির ওপর করা দীর্ঘ গবেষণা থেকে। এখন আর শুধু বাতাস, মেঘ, চাপ আর বৃষ্টি দেখে ঝড় বোঝা যায় না; মাটির আর্দ্রতা বা “ভেজা‑শুকনো অবস্থা” দেখেই বোঝা যাবে, কোথায় কখন বাজ পড়বে (Lightning Strike), কোথায় ঝড় নেমে আসবে। এই বিষয়টি সহজ বাংলায় বিস্তারিতভাবে বুঝলে সাধারণ পাঠকও বুঝতে পারবেন কীভাবে এই ছোট ছোট পরিবর্তন থেকে বড় বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় জন্মায়।
মাটি থেকেই শুরু হয় ঝড়ের প্রস্তুতি
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ধরুন গরমের দুপুরে গ্রামের একটি প্রান্ত খড়ের মতো শুকনো মাটি, আর একটি প্রান্ত খাল বা ধান জমির জন্য ভিজে মাটি। যেখানে মাটি শুকনো, সেখানে সূর্যের তাপে মাটি দ্রুত গরম হয়ে ওঠে। গরম মাটি থেকে ওঠা বাতাসও খুব দ্রুত উপরে উঠতে থাকে। আর যেখানে মাটি ভিজে থাকে, সেখানে মাটি দীর্ঘক্ষণ একটু ঠান্ডা থাকে, তাই তার ওপর দিয়ে ওঠা বাতাসের তাপ ও চাপের পরিবর্তন অনেক সামান্য হয়। তাই মাটির আর্দ্রতা ভেদে ভূপৃষ্ঠের কাছের বাতাসের গতি, চাপ আর তাপমাত্রায় ছোট ছোট পার্থক্য তৈরি হয়।
এই ছোট ছোট পার্থক্যগুলো মিলে মেঘ গড়ে তোলে। একটু একটু করে মেঘ বেড়ে বেড়ে অনেক সময় ঝোড়ো হাওয়ায় ভরে উঠে বাজ পড়ে, বৃষ্টি নেমে আসে। এই কারণেই বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু আকাশের মেঘ বা বাতাস দেখে পূর্ণাঙ্গ ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া যায় না; মাটির আর্দ্রতা আর ভূপৃষ্ঠ লাগোয়া বাতাসের মিশ্রণ বুঝতে হবে। তখনই ধরা যাবে, কোন অঞ্চলে ভবিষ্যতে বাজ পড়ার সম্ভাবনা বেশি, কোন জায়গায় ঝড় শক্তিশালী হবে।

সাহারা মরুভূমির দীর্ঘ গবেষণা থেকে কী শেখা গেল?
ব্রিটেনের ইউকে সেন্টার ফর ইকোলজি অ্যান্ড হাইড্রোলজিতে কাজ করা বিজ্ঞানীরা আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির একটি বড় অংশে ২০০৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রায় ২২ লাখ বার বজ্রপাত (Lightning Strike) ও ঝড় পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই সব সময়ে উপগ্রহের মাধ্যমে মাটির আর্দ্রতা, মেঘ, তাপমাত্রা, বাতাসের চাপ ও গতি সব মিলিয়ে একটি বিশাল ডেটাবেস তৈরি হয়েছে। এই বিশাল ডেটা বিশ্লেষণ করে তাঁরা বুঝেছেন, ঝড় বা বাজ আসার আগে মাটির আর্দ্রতা আর নীচের স্তরের বাতাসের মিশ্রণে একটি নির্দিষ্ট ধরনের “প্যাটার্ন” বা শৈলী তৈরি হয়।
এই নির্দিষ্ট প্যাটার্ন ধরলেই বিজ্ঞানীরা ৬ ঘণ্টা বা তার চেয়ে বেশি আগে বলতে পারেন, কোথায় কতটা বলের ঝড় আসতে পারে, কোন অঞ্চলে বাজ পড়ার সম্ভাবনা বেশি। এই গবেষণা থেকে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বোঝা গেল যে, বাজ আর ঝড় একেবারে আকাশের খামখেয়ালিপনা নয়, এর পেছনে মাটির আর্দ্রতা আর বাতাসের মিশ্রণে একটি বিজ্ঞানসম্মত কারণ কাজ করে। এই কারণই অনেকক্ষেত্রে একই রকম আবহাওয়াতে এক জায়গায় বাজ পড়ে, আর এক জায়গায় পড়ে না।
কেন মাটির আর্দ্রতা এত গুরুত্বপূর্ণ?
এই গবেষণা অনুযায়ী, ঝড় হওয়ার দুটি প্রধান কারণ বা “ফ্যাক্টর” হল–বায়ুর চাপের আচমকা তারতম্য এবং মাটির আর্দ্রতা বা ভেজা–শুকনো অবস্থা। বায়ুচাপের তারতম্য বলতে বোঝায় যে, একই সময়ে এক জায়গায় উচ্চ চাপ আর এক জায়গায় নিম্ন চাপ তৈরি হয়ে যাওয়া, যার মাধ্যমে বাতাস দ্রুত গতি নিয়ে চলে। এই সময় মাটি যদি শুকনো হয়, তাহলে ভূপৃষ্ঠ দ্রুত গরম হয়ে যায়, আর উপরে উঠে যাওয়া গরম বাতাসের মন্ডল বাড়িয়ে দেয় ঝড়ের গতি। বিপরীতে যেখানে মাটি ভিজে থাকে, সেখানে মাটি ঠান্ডা থাকে, মেঘ তৈরিও ধীরগতির হয়, তাই ঝড়ের তীব্রতা কম হয়।
এই দুই ফ্যাক্টর—বায়ুচাপের তারতম্য আর মাটির আর্দ্রতা—একসঙ্গে কাজ করলে বাতাস দ্রুত গতি পায়, মেঘ দ্রুত বাড়ে, এবং বাজ পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এই কারণে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মাটির আর্দ্রতা দেখেই বলা যায়, কোন অঞ্চলে বাজ পড়ার সম্ভাবনা বেশি, কোন অঞ্চলে বাজ পড়বে কিংবা না পড়বে। এই ধরনের তথ্য পেলে কৃষক, শহরবাসী ও সরকারি কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে পারেন, যাতে এই ঝড়ের সময় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কম হয়।

AI আর উপগ্রহের সাহায্যে বাজ (Lightning) ও ঝড়ের পূর্বাভাস
এই গবেষণা বলছে, এখন আর শুধু মানুষের চোখ আর সাধারণ যন্ত্র দিয়ে ঝড় বোঝা যায় না; এখন আধুনিক টেকনোলজি আর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স—AI এর সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা উপগ্রহ থেকে আসা মাটির আর্দ্রতার তথ্য, মেঘ, বাতাসের চাপ ও তাপমাত্রা–এই সব ডেটা কম্পিউটারে ভরে দেন। এই ডেটা থেকে AI শিখে যায়, কোন ধরনের মাটির আর্দ্রতা আর বাতাসের মিশ্রণে পরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাজ পড়বে বা ঝড় আসবে। এভাবে AI সেই অঞ্চলের নাম, সময় আর ঝড়ের তীব্রতা নির্দিষ্ট করে বার করতে পারে।
এই ধরনের প্রযুক্তি AI ব্যবহার করে সত্যিই ঝড় ও বাজ পড়ার পূর্বাভাস আগে থেকে বলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। গবেষকদের মতে, এই ধরনের মডেল হলে শুধু ঝড় হবে কিনা তা নয়, কতটা বিধ্বংসী হবে, কতটা বাজ পড়বে, তার আশেপাশের এলাকার জন্য কতটা বিপদ হতে পারে, সেসবও বুঝতে পারা যাবে। এই কারণে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শুধু আকাশ আর বাতাস দেখলে চলবে না; মাটির আর্দ্রতা পর্যবেক্ষণ করেই আসল পূর্বাভাস বের করা যাবে। এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে যে কোনও দেশে, যে কোনও জায়গায়, বাজ পড়া ও ঝড়ের সম্ভাব্য স্থান ও সময় আগে থেকেই বলে দেওয়া সম্ভব হবে।
মানুষের জীবনে এই গবেষণার প্রভাব
এই গবেষণা শুধু বিজ্ঞানীদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জীবনেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। ধরুন, গ্রামের কৃষক যদি জানতে পারেন যে কোন দিন কোন অঞ্চলে বাজ পড়ার সম্ভাবনা বেশি, তাহলে তাঁরা আগে থেকেই সতর্ক হতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, ওই দিন খোলা মাঠে কাজ কম করা, উঁচু গাছ বা খাটা পাহাড়ের কাছে অবসর না নেওয়া, বিদ্যুৎ তার বা ভারী বস্তু থেকে দূরে থাকা ইত্যাদি সাধারণ নিরাপত্তা পদ্ধতি মেনে চলা সম্ভব হবে। এই ধরনের সতর্কতা গ্রহণ করলে বাজ পড়ে মানুষের মৃত্যু বা আঘাতের ক্ষেত্রে বেশ কিছু ক্ষতি কমে যেতে পারে।
শহরেও এই ধরনের প্রভাব লক্ষ্য করা যাবে। উচ্চ ভবন, বিমানবন্দর, বিল্ডিং বা বৈদ্যুতিক লাইন ভেঙে যাওয়ার মতো বিপদ কমাতে সহায়তা করবে এই ধরনের পূর্বাভাস। বিমানবন্দরে যদি আগে থেকেই জানা যায় যে কোন সময় বাজ পড়ার সম্ভাবনা বেশি, তাহলে সেই সময়ে বিমানের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখা যেতে পারে। এইভাবে মানুষের প্রাণরক্ষার কাজ হবে অনেক কম ঝুঁকির মধ্যেও।
বাজ (Lightning Strike) ও ঝড় প্রতিরোধে কী কী করা যাবে?
এই গবেষণা থেকে একটা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ওঠে যে, মাটির আর্দ্রতা বাড়ালে বাজ পড়ার সম্ভাবনা কিছুটা কমে যেতে পারে। কৃষক যদি জল সেচ, খড় বা পুরোনো গাছের ডালপালা রেখে বা কৃত্রিম জলাধার তৈরি করে মাটির ভেজা–শুকনো অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তাহলে ঝড় ও বাজ দুটোই কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হবে। এই ধরনের কাজগুলো মাটির গুণমান বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঝড় ও বাজের প্রভাব কমাতেও সাহায্য করবে।
আর, শুধু কৃষকদের কাজ নয়, শহর ও শিল্পকেন্দ্রও এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের ঝুঁকি কমাতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বৃষ্টির আগে মাটির আর্দ্রতা বাড়ানো, বৃষ্টির জল সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা বা বৃষ্টির সময় বিদ্যুৎ লাইনের ঝুঁকি মাপা—এই সব ধরনের কাজ করা সম্ভব হবে এই ধরনের প্রযুক্তির মাধ্যমে। এই সব কাজ মাটি আর বাতাসের মিশ্রণের উপর ভিত্তি করে করা হয়, যার ফলে বাজ পড়া ও ঝড়ের ঝুঁকি কমবে এবং প্রাণহানির হারও কমবে।

ভবিষ্যতে কী আশা করা যায়?
এই ধরনের গবেষণা থেকে বোঝা যায় যে ভবিষ্যতে বাজ পড়া বা ঝড়ের পূর্বাভাস আরও নির্ভরযোগ্য হবে। বিশেষ করে যে সব দেশে মাটির আর্দ্রতা বা বাতাসের পরিবর্তন খুব বেশি, সেখানে এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করলে বাজ পড়া ও ঝড়ের সম্ভাবনা আরও সহজে বোঝা যাবে। এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সব মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার সুনিশ্চিত হবে এবং প্রাণহানির হার কমবে।
এই ধরনের গবেষণা শুধু বিজ্ঞানীদের জন্য নয়, বরং সাধারণ মানুষকেও বুঝতে সাহায্য করবে যে বাজ পড়া (Lightning Strike) বা ঝড় শুধু আকাশের খেলা নয়, এর পিছনে মাটির আর্দ্রতা, বাতাসের চাপ, মেঘ ও বাতাসের মিশ্রণে একটি বিজ্ঞানসম্মত কারণ কাজ করে। এই ধরনের জ্ঞান থেকে নিজেরা নিরাপত্তা বাড়ানোর উপায় জানা যাবে এবং প্রাকৃতিক বিপদ থেকে নিজেদের রক্ষা করা সম্ভব হবে। এইভাবে বিজ্ঞান আর প্রযুক্তি মিলে মানুষের জীবনকে নিরাপদ করে রাখবে বাজ পড়া বা ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক বিপদ থেকে।
আরও আকর্ষণীয় Article পড়তে দেখুন এখানে