২০২৬ সাল থেকে আপনি আপনার Gmail ব্যবহারকারীর নাম পরিবর্তন করতে পারবেন—সব ইমেইল ও ফাইল অপরিবর্তিত রেখেই
বিগত কয়েক বছর ধরে অসংখ্য ব্যবহারকারী গুগলের কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন এমন একটি ফিচারের জন্য, যা তাদেরকে নিজের Gmail ID পরিবর্তন করার সুযোগ দেবে, কিন্তু পুরনো ইমেইল, ফাইল, সাবস্ক্রিপশন বা অন্য কোনো তথ্য হারাতে হবে না। অবশেষে, ২০২৬ সাল থেকে Google এই বহুপ্রতীক্ষিত ফিচারটি চালু করতে চলেছে। নতুন এই আপডেটের মাধ্যমে ব্যক্তিগত Gmail অ্যাকাউন্টের ব্যাবহারকারীরা তাদের মূল ‘@gmail.com’ ঠিকানা পরিবর্তন করতে পারবেন, পুরনো সমস্ত তথ্য ঠিকঠাক রাখার সঙ্গেই।
Gmail Username পরিবর্তনের নতুন পদ্ধতি
আগে পর্যন্ত Gmail ব্যবহারকারীর নাম বা প্রধান ইমেইল আইডি স্থায়ী বলে গণ্য হতো। ফলে একবার তৈরি হয়ে গেলে সেটি আর কখনো পরিবর্তন করা যেত না। কিন্তু এখন Google-এর নতুন আপডেট সেই নিয়ম ভেঙে দিচ্ছে। এখন আপনি যদি ব্যক্তিগত Google Account (যার শেষে ‘@gmail.com’ লেখা থাকে) ব্যবহার করেন, তবে সহজেই পুরনো ইমেইল ঠিকানার জায়গায় একটি নতুন ঠিকানা বেছে নিতে পারবেন—এবং সেটিও ‘@gmail.com’ ডোমেইনের মধ্যেই থাকবে।
এই পরিবর্তনের ফলে পুরনো ঠিকানাটি “অ্যালিয়াস” (alias) হিসেবে কাজ করবে, অর্থাৎ কেউ যদি সেই পুরনো ঠিকানায় মেল পাঠায়, সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার নতুন Gmail ইনবক্সেই পৌঁছে যাবে। আপনি চাইলে পুরনো ঠিকানাটি দিয়েও YouTube, Google Maps, Drive বা Google Play Store-এ লগইন করতে পারবেন। ফলে ডেটা, ফাইল, সাবস্ক্রিপশন, কেনাকাটা এবং অ্যাকাউন্টের ইতিহাস—সব কিছু ঠিক আগের মতোই থাকবে।
কীভাবে পরিবর্তন করবেন আপনার Gmail Username
আপনার যদি নতুন এই ফিচার চালু হয়ে থাকে, তাহলে নিচের ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করতে হবে—
-
myaccount.google.com ওয়েবসাইটে যান।
-
বাম দিকের মেনু থেকে “Personal info” নির্বাচন করুন।
-
সেখানে “Email” সেকশন খুলে Google Account email-এ ক্লিক করুন।
-
যদি আপনার অ্যাকাউন্টে ফিচারটি সক্রিয় থাকে, আপনি একটি নতুন অপশন দেখতে পাবেন — “Change your Google Account email address”।
-
একটি উপলব্ধ নতুন username লিখুন এবং তা নিশ্চিত করুন।
পরিবর্তনের পর কিছু পুরনো অ্যাপ বা সার্ভিস, যেমন Google Calendar, হয়তো সঙ্গে সঙ্গে নতুন ইমেইল দেখাবে না এবং সেখানে পুরনো ঠিকানাটি দেখা যেতে পারে। সময়ের সঙ্গে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হবে।
সীমাবদ্ধতা
Google এই পরিবর্তন ব্যবস্থায় বিভিন্ন নিরাপত্তা ও অপব্যবহার রোধের ব্যবস্থা রেখেছে। যেমন—
-
আপনি প্রতি ১২ মাসে একবারই Gmail ঠিকানা পরিবর্তন করতে পারবেন।
-
সর্বমোট তিনবার পর্যন্ত এটি পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ একটি অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ চারটি আলাদা Gmail ঠিকানা থাকতে পারে (মূলসহ)।
-
একবার পরিবর্তনের পর আগের ইমেইল ঠিকানাটি ব্যবহার করে আপনি নতুন কোনো আলাদা অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবেন না, যতক্ষণ না ১২ মাসের কুলডাউন সময় শেষ হয়।
এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত Gmail অ্যাকাউন্টের জন্য কার্যকর হবে। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ ম্যানেজড অ্যাকাউন্টের (যেমন @company.com বা @edu.com) ব্যবহারকারীদের এই পরিবর্তনের জন্য নিজ নিজ অ্যাডমিন–এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

প্রথমে ভারতে আসছে এই ফিচার
Google ধীরে ধীরে বিশ্বজুড়ে এই ফিচারটি নিয়ে আসছে। লক্ষ্য করা গেছে যে, এ সংক্রান্ত আপডেটটি প্রথমে Google-এর হিন্দি সাপোর্ট পেজে প্রদর্শিত হয়েছে। ফলে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতে এটি হয়তো প্রথমে চালু করা হবে, তারপর ধীরে ধীরে অন্যান্য দেশে সম্প্রসারিত করা হবে। ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত অনেক ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে ফিচারটি না দেখা গেলেও, পরবর্তী মাসগুলোতে তা সক্রিয় হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কেন এই ফিচার গুরুত্বপূর্ণ
Gmail-এর সূচনালগ্ন থেকেই ব্যবহারকারীর নাম বা ইমেইল আইডি একবার তৈরি হয়ে গেলে তা স্থায়ী ছিল। ফলে অনেকেই কৈশোরে মজার বা অপ্রাসঙ্গিক নাম দিয়ে ইমেইল তৈরি করেছিলেন, যা পরবর্তীকালে পেশাগত বা ব্যক্তিগতভাবে বিব্রতকর হয়ে দাঁড়াত। আগে সমাধান ছিল সম্পূর্ণ নতুন Gmail অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সেখানে ডেটা স্থানান্তর করা, যা অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ ছিল। অনেক সময় তাতে Google Drive ফাইল, YouTube চ্যানেল বা Play Store-এর কেনাকাটা স্থানান্তর হত না, ফলে ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি হতো।
Google-এর এই নতুন পদক্ষেপ সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান এনে দিয়েছে। এখন ব্যবহারকারীর নাম বদলানো হবে দ্রুত, নিরাপদ এবং ঝামেলাবিহীন। ব্যবসা বা পেশাদার ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে সুবিধাজনক হবে, কারণ আপনাকে আর পুরনো বিব্রতকর ইমেইল আইডি ব্যবহার করতে হবে না।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা ও টিপস
এই ফিচার ব্যবহারের আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি—
-
আপনার অ্যাকাউন্টের সব গুরুত্বপূর্ণ ইমেইল ও ফাইলের ব্যাকআপ (backup) রাখুন।
-
যদি আপনি ChromeOS ব্যবহার করেন, তাহলে ইমেইল পরিবর্তনের পর কিছু সেটিংস আবার যাচাই করতে হতে পারে।
-
নতুন ইমেইল যুক্ত করার পর সেটি অন্য ডিভাইস বা অ্যাপে লগইন করতে অতিরিক্ত re-authentication প্রয়োজন হতে পারে।
যেহেতু Google এখনও এই ফিচার সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি, তাই এটি ধীরে ধীরে চালু হচ্ছে। তবে Support পেজে নথিভুক্ত পরিবর্তনগুলি থেকে স্পষ্ট, Google এই ফিচারটি সক্রিয়ভাবে বাস্তবায়ন করছে।
Gmail ব্য়াবহারকারীদের জন্য এক নতুন সুযোগ
Gmail ব্যবহারকারীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক বিপ্লবী পদক্ষেপ। গুগলের এই নতুন ফিচার ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আরও নমনীয় ও ব্যবহারবান্ধব করে তুলবে। এখন থেকে আপনি চাইলে আপনার Gmail নাম পরিবর্তন করে নতুন পরিচয়ে নিজের অনলাইন উপস্থিতি সাজাতে পারবেন—সব পুরনো ইমেইল ও ফাইল এক জায়গায় রেখে।
অর্থাৎ, আর নয় নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে ডেটা ট্রান্সফারের ঝামেলা; এখন Gmail-এর মধ্যেই পাবেন সম্পূর্ণ সহজ সমাধান। ২০২৬ সালের এই ফিচার নিঃসন্দেহে Google ব্যবহারকারীদের জন্য এক বড় সুখবর।
আরও জানতে দেখুন বুলেটিন বাংলা