
হোলি ২০২৫ (Holi 2025): ন্যাড়া পোড়ানোর সঠিক সময় এবং হোলিকা দহনের শুভ মুহূর্ত
ফাল্গুন মাস মানেই রঙের উৎসবের আমেজ। সারা দেশ জুড়ে পালিত হয় হোলি (holi) বা দোল উৎসব (dol utsav)। এই উৎসবের আগের দিন পালিত হয় হোলিকা দহন বা ন্যাড়া পোড়া। এই বছর হোলির তারিখ নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি থাকলেও, বৈদিক পঞ্জিকা অনুসারে ২০২৫ সালের ১৩ই মার্চ ন্যাড়া পোড়া এবং ১৪ই মার্চ দোল পূর্ণিমা পালিত হবে।
হোলিকা দহনের (holika Dahan) তাৎপর্য:
হোলিকা দহন একটি পবিত্র এবং ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। এই দিনটি অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, এই দিনে ভক্ত প্রহ্লাদকে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু ভগবান বিষ্ণুর কৃপায় তিনি রক্ষা পান এবং হোলিকা দগ্ধ হন। এই ঘটনা থেকেই হোলিকা দহনের প্রথা প্রচলিত হয়েছে।
ন্যাড়া পোড়া (Nyara Pora) বা বুড়ি পোড়ানো (Buri Porano):
বাঙালি সংস্কৃতিতে হোলিকা দহন ন্যাড়া পোড়া বা বুড়ি পোড়ানো নামেও পরিচিত। এই দিনটিতে শুকনো কাঠ, পাতা ইত্যাদি জ্বালিয়ে একটি প্রতীকী হোলিকা তৈরি করা হয় এবং তা দহন করা হয়। এই প্রথা অশুভ শক্তিকে দূর করে শুভ শক্তির আগমনকে চিহ্নিত করে।
ন্যাড়া পোড়ানোর ছড়া:
“আজ আমাদের ন্যাড়া পোড়া কাল আমাদের দোল, পূর্ণিমাতে চাঁদ উঠেছে বলো হরিবোল” – এই ছড়াটি ন্যাড়া পোড়ানোর সময় আবৃত্তি করার প্রচলন রয়েছে। এটি উৎসবের আনন্দ ও উৎসাহকে বাড়িয়ে তোলে।
২০২৫ সালে ন্যাড়া পোড়ানোর সময়:
২০২৫ সালের ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে ১৩ই মার্চ সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৪ই মার্চ দুপুর ১২টা ২৩ মিনিটে। সেই অনুযায়ী, হোলিকা দহন বা ন্যাড়া পোড়া অনুষ্ঠিত হবে ১৩ই মার্চ।

হোলিকা দহনের শুভ মুহূর্ত:
হোলিকা দহনের জন্য ভদ্রা কালের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়। ভদ্রা কালে হোলিকা দহন করা অশুভ বলে মনে করা হয়। ২০২৫ সালের ১৩ই মার্চ সন্ধ্যা ৬টা ৫৭ মিনিট থেকে রাত ৮টা ১৪ মিনিট পর্যন্ত ভদ্রার লেজ থাকবে এবং রাত ১০টা ২২ মিনিট পর্যন্ত ভদ্রার মুখ থাকবে। তাই, হোলিকা দহনের সবচেয়ে শুভ সময় হল ১৩ই মার্চ রাত ১১টা ২৬ মিনিট থেকে ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।
ভদ্রা কাল কী:
ভদ্রা কাল হল হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে একটি অশুভ সময়, যা বিভিন্ন শুভ কাজের জন্য নিষিদ্ধ বলে মনে করা হয়। এই সময়টিতে কোনও শুভ কাজ করলে তা অশুভ ফল দিতে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়।
হোলিকা দহনের মাহাত্ম্য:
- অসত্যের ওপর সত্যের বিজয়: হোলিকা দহন অসত্যের ওপর সত্যের বিজয়ের প্রতীক।
- সন্তান সুখ: বিশ্বাস করা হয়, হোলিকা দহনের পূজা করলে সন্তান সুখ লাভ করা যায়।
- পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধি: এই অনুষ্ঠান পরিবারের সুখ ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করে।
- নেতিবাচক শক্তির বিনাশ: হোলিকা দহন বাড়ির চারপাশ থেকে নেতিবাচক শক্তি দূর করতে সহায়তা করে।
- রোগ মুক্তি: অনেক স্থানে বিশ্বাস করা হয়, এই সময় আগুনের তাপ গায়ে লাগলে অনেক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
হোলিকা দহনের প্রস্তুতি:
- হোলিকা দহনের জন্য শুকনো কাঠ, বাঁশ, ঘাস এবং অন্যান্য দাহ্য পদার্থ সংগ্রহ করা হয়।
- একটি খোলা জায়গায় একটি কাঠামো তৈরি করা হয়, যেখানে দাহ্য পদার্থগুলি সাজানো হয়।
- হোলিকার চারধারে প্রদক্ষিণ করে পূজা করা হয়।
- হোলিকা দহনের পর, লোকেরা আগুনের চারপাশে গান গায় এবং নাচে।
- এই সময় অনেকে কাঁচা ছোলা, নারকেল ও বিভিন্ন সবজি আগুনে পুড়িয়ে প্রসাদ হিসাবে গ্রহণ করে।

হোলিকা দহনের সতর্কতা:
- হোলিকা দহনের সময় আগুন থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।
- ছোট বাচ্চাদের আগুনের কাছে একা থাকতে দেওয়া উচিত নয়।
- দাহ্য পদার্থগুলি এমন জায়গায় রাখা উচিত, যাতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা না থাকে।
- এই সময় পরিবেশের কথা মাথায় রেখে, যতটা সম্ভব কম ধোঁয়া হয়, সেই দিকে নজর রাখা উচিত।
হোলিকা দহন এবং দোল উৎসবের মাধ্যমে আমরা পুরনো বছরের সমস্ত দুঃখ-কষ্ট ভুলে নতুন করে জীবন শুরু করার প্রেরণা পাই। এই উৎসব আমাদের মধ্যে ঐক্য ও ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় করে।
আরও খবর পড়তে দেখুন বুলেটিন বাংলা