কেন অধিকাংশ হোটেলগুলোতে ১৩ তম তলা থাকে না?
হোটেলগুলোতে ১৩ তম তলা না থাকার প্রধান কারণ হলো ত্রিস্কাইডেকাফোবিয়া নামক একটি কুসংস্কার, যা সংখ্যাটির প্রতি ভয় বা আতঙ্ককে বোঝায়।
মূল বিষয়সমূহ
- ত্রিস্কাইডেকাফোবিয়া(triskaidekaphobia) হোটেল ডিজাইন এবং অতিথি ব্যবস্থাপনায় গভীর প্রভাব ফেলে, যা সাংস্কৃতিক কুসংস্কারের প্রতিফলন।
- বিভিন্ন সংস্কৃতির কুসংস্কারের ভিন্নতা, যেমন এশিয়ান সংস্কৃতিতে ৪ সংখ্যাকে এড়ানো, স্থাপত্য চর্চায় সাংস্কৃতিক বিশ্বাসের প্রভাবকে তুলে ধরে।
- যদিও হোটেল এবং এলিভেটর প্যানেলে ১৩ তম তলা বাদ দেওয়া একটি প্রচলিত রীতি, সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এখন ১৩ সংখ্যাকে গ্রহণ করছে, যা সামাজিক মানসিকতা এবং স্থাপত্য প্রবণতায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
ত্রিস্কাইডেকাফোবিয়া (triskaidekaphobia): হারিয়ে যাওয়া ১৩ তলা নিয়ে ভয়
সংখ্যা ১৩-র প্রতি এই ভয় আমাদের জীবনযাত্রার বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।
- বিমানের ১৩ তম সারি বাদ দেওয়া থেকে শুরু করে হোটেলে ১৩ তম তলা না রাখা পর্যন্ত এই কুসংস্কারের ছাপ স্পষ্ট।
- এই ভয় মানুষকে সচেতন এবং অচেতনভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে, যা অনেক সময় আমরা বুঝতে পারি না।
হোটেল কর্মীরা যখন ১৩ তলা এড়িয়ে চলে বা অতিথিরা ১৩ সংখ্যাযুক্ত রুম এড়াতে রুম পরিবর্তনের অনুরোধ করেন, তখন এই ভয়ের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ত্রিস্কাইডেকাফোবিয়ার উৎপত্তি
ত্রিস্কাইডেকাফোবিয়া-এর শিকড় ধর্মীয় এবং পৌরাণিক বিশ্বাসে নিহিত।
- খ্রিস্টান ধর্মে, দ্য লাস্ট সাপার-এ ১৩ তম অতিথি জুডাস ইসকারিয়ট, যিনি যীশুকে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন, সংখ্যাটিকে প্রতারণা এবং দুর্ভাগ্যের প্রতীক করেছে।
- নর্স পুরাণেও ১৩ সংখ্যার প্রতি নেতিবাচক ধারণা রয়েছে।
- উদাহরণস্বরূপ, লোকি, দুষ্টু দেবতা, যখন একটি ভোজে ১৩ তম অনাহূত অতিথি হয়ে আসেন, তখন তিনি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। এর ফলে প্রিয় দেবতা বাল্ডার-এর মৃত্যু ঘটে, যা এই সংখ্যার দুর্ভাগ্যের ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে।
মানসিক প্রভাব
ত্রিস্কাইডেকাফোবিয়া শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিক কৌতূহল নয়; এটি বাস্তব জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
- উদাহরণস্বরূপ, অনেক হোটেল তাদের ডিজাইন এবং ব্যবসায়িক কার্যকলাপে এই ভয়ের প্রভাবকে প্রতিফলিত করে ১৩ তম তলা বাদ দেয়।
- একটি গ্যালাপ জরিপে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অংশগ্রহণকারী ১৩ তম তলা নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন এবং কেউ কেউ তা এড়াতে রুম পরিবর্তনের অনুরোধ করেন।
স্থাপত্য এবং সাংস্কৃতিক কুসংস্কার
কুসংস্কার মানুষের আচরণকে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবিত করেছে, এবং স্থাপত্যও এর ব্যতিক্রম নয়।
- হোটেলের কক্ষ নম্বর বা তলা থেকে ১৩ সংখ্যাটি বাদ দেওয়া থেকে শুরু করে এশিয়ান দেশগুলোতে ৪ তলা বাদ দেওয়া পর্যন্ত এই কুসংস্কার স্থাপত্য চর্চায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
- কিন্তু স্থপতিরা কীভাবে এই বিশ্বাসগুলো মানিয়ে চলেন, এবং বিশ্বজুড়ে কুসংস্কারগুলো কীভাবে ভিন্ন হয়?
স্থাপত্যে পরিবর্তন
বিশ শতকের গোড়ার দিকে যখন আকাশচুম্বী ভবন তৈরি শুরু হয়, তখন স্থপতিরা ১৩ সংখ্যার ভয় মোকাবিলা করার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন।
- অতিথিদের কুসংস্কার এবং পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে ১৩ তম তলা বাদ দেওয়ার প্রচলন শুরু হয়।
- অনেক ডিজাইনার এই সংখ্যার নেতিবাচক ধারণা এড়াতে সৃজনশীল সমাধান দেন, যেমন ১৩ তলা ‘এম’ নামে লেবেল করা।
বৈশ্বিক কুসংস্কারের ভিন্নতা
পশ্চিমা সংস্কৃতির বাইরে, অন্যান্য দেশেও তলাগুলোর সংখ্যা নিয়ে কুসংস্কার দেখা যায়।
- এশিয়ান সংস্কৃতিতে, ৪ সংখ্যা এড়ানো হয় কারণ এটি ‘মৃত্যু’ শব্দের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- লাস ভেগাসের এমজিএম গ্র্যান্ড হোটেল এশিয়ান অতিথিদের এই কুসংস্কার মাথায় রেখে তাদের তলা পুনরায় নম্বরিং করে।
ব্যবসা এবং কুসংস্কার: হোটেলগুলো কেন ১৩ তলা এড়ায়?
১৩ সংখ্যার প্রতি ভয়ের বিষয়টি শুধু কুসংস্কার নয়; এটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তও।
- ওটিস এলিভেটর কোম্পানি অনুসারে, ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভবনে এলিভেটরে ১৩ সংখ্যাটি বাদ দেওয়া হয়।
অতিথি পছন্দের সাথে খাপ খাওয়ানো
অতিথিদের সন্তুষ্ট রাখা একটি হোটেলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
- একটি জরিপ অনুযায়ী, ১৩ শতাংশ অতিথি ১৩ তম তলায় থাকার বিষয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেন।
- হোটেলগুলো তাই তাদের অতিথিদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে ১৩ তলা বাদ দিয়ে বা এটি অন্য নামে পুনঃনামকরণ করে।
অরও খবর